মায়ের মৃত্যুর পর শেষবারের মতো মুখ দেখার আকুতি ছিল মেয়ের। কিন্তু দুই দেশের সীমান্তের কারণে মায়ের শেষ বিদায়ে শামিল হওয়া নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। অবশেষে মানবিক উদ্যোগে মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তের শূন্যরেখায় আনা হয় ভারতীয় ওই বৃদ্ধার মরদেহ। সেখানে মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান বাংলাদেশে বসবাসকারী মেয়ে হাফিজা খাতুন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা সীমান্তের ১০৯ নম্বর মেইন পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজিবি ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা।
বিজ্ঞাপন
মারা যাওয়া ওই নারীর নাম মোছা. জায়রা (৭০)। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার গোবিন্দপুর গ্রামের মালিয়াপোতা পোস্ট এলাকার বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিজ বাড়িতে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।
জায়রার মেয়ে হাফিজা খাতুন মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা ফিকির আলীর স্ত্রী। বাংলাদেশে বসবাস করায় ভারতে থাকা মায়ের মৃত্যুর পর তার শেষ মুখ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যদের উপস্থিতিতে সীমান্তের শূন্যরেখায় মরদেহ আনা হলে মাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান তিনি।
বিজ্ঞাপন
হাফিজা খাতুন বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে থাকি, আর মা ভারতে থাকতেন। দুই দেশের সীমান্তের কারণে মায়ের শেষ বিদায়ে সরাসরি যেতে পারছিলাম না। পরে বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় সীমান্তের শূন্যরেখায় মায়ের মরদেহ আনা হয়। সেখানে মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখতে পেরেছি। মাকে আর কখনো দেখতে পাব না এই কষ্ট কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। যারা আমাকে মায়ের শেষ মুখ দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’
ঘটনাস্থলে বিজিবির পক্ষে নাজিরাকোনা বিওপির টহল কমান্ডার হাবিলদার শরিফুল ইসলামসহ পাঁচ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিএসএফের পক্ষে ইন্সপেক্টর এস কে রয়সহ পাঁচ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে নাজিরাকোনা বিওপির টহল কমান্ডার হাবিলদার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতে মারা যাওয়া ওই নারীর মেয়ে বাংলাদেশে বসবাস করেন। মায়ের মৃত্যুর পর শেষবারের মতো মুখ দেখার সুযোগ করে দিতে সীমান্তের শূন্যরেখায় মরদেহ আনা হয়। এসময় বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।’
বিজ্ঞাপন
আসিফ ইকবাল/এসআর
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
