ছবির ক্যাপশন: .
ক্রীড়া ডেস্ক
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বল হাতে দারুণ শুরু করেও দলের হার ঠেকাতে পারেননি তাসকিন আহমেদ। তাঁর পেস আক্রমণে মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২৭২ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ গড়ে দলটি। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থামে মাত্র ১৭২ রানে। ৯৯ রানের বড় হারের পর ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এই পেসার।
আবুধাবিতে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন বলেন, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল এবং এই পিচে ২৭০ রান তাড়া করা বাংলাদেশের সামর্থ্যের মধ্যেই ছিল। তাঁর মতে, ব্যাটাররা নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।
তাসকিন বলেন, ‘সত্যি বলতে, আজকে যেরকম পিচ ছিল, আমরাও তো বল করেছি; একটু এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু পানিশড হচ্ছিলাম। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অন্তত ২৭০ অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল। কিন্তু এই কন্ডিশনে আমাদের আসলে তাড়া করা উচিত ছিল। আমরা আসলেই ভালো খেলিনি।’
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে বড় জুটি গড়তে না পারার বিষয়টি তুলে ধরেন তাসকিন। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে উদ্বোধনী জুটি থেকে। এরপর কোনো জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারেনি।
ব্যাটারদের বারবার একই ধরনের ভুল করার প্রবণতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটাও জুটি গড়তে পারিনি। একটা জুটি হলেই খেলাটা বের হয়ে যেত। আমাদের ব্যাটিংয়ে প্রায়ই ভুল করা হয়। বোলিংয়ে তাও তো একটা ধারাবাহিকতা আছে। আসলে ব্যাটসম্যানদের জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু তারা পারে নাই।’
তাসকিনের মতে, বাংলাদেশের ব্যাটারদের দক্ষতার ঘাটতির চেয়ে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষেত্রে দুর্বলতা বেশি চোখে পড়ছে। চাপের মুখে দ্রুত উইকেট হারানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার ওপরও জোর দেন তিনি।
এই পেসার বলেন, ‘ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে পারার ঘাটতিটা একটু বেশি। কারণ স্কিল কিন্তু সবার আছে। প্রতিটি ব্যাটসম্যানই প্রমাণ করেছে তারা ভালো ব্যাট করতে পারে। মাঝে মাঝে আমরা দল হিসেবে চাপে পড়লে খুব দ্রুত ভেঙে পড়ি। এই জিনিসটাই আমাদের আসলে বের হয়ে আসতে হবে। বড় দল হতে চাইলে যেকোনোভাবে বের হয়ে আসতে হবে।’
বড় দল হয়ে উঠতে হলে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তাসকিন। সমস্যার সমাধানে দলের সবাই মিলে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও ফাইনালে ওঠার আশা ছাড়ছেন না এই পেসার। নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলে ঘুরে দাঁড়াতে চান তাঁরা।
তাসকিন বলেন, ‘এখনো একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমরা চাইব যে ভালোভাবে লড়াই করে ফিরে এসে যেন ফাইনাল খেলতে পারি।’
ত্রিদেশীয় সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে রোববার মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান। গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী বুধবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ফাইনালে ওঠার আশা টিকিয়ে রাখতে সেই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই লিটন দাসের দলের।
