October 13, 2026, 5:29 am
গজারিয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে পোকায় ধরা ও নিম্নমানের চাল বিতরণ
Reporter Name
- Update Time : Tuesday, October 13, 2026
- 10 Time View
জাতীয় ডেস্ক: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অংশ হিসেবে পরিচালিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ করা এই চালের গুণগত মান অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুলভ মূল্যে বা বিনামূল্যে সহায়তার চাল নিতে এসে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন কারণ এসব চালের বেশিরভাগই খাওয়ার উপযোগী নয়।
সম্প্রতি গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে চালের এই বেহাল দশা দেখতে পাওয়া যায়। সুবিধাভোগীদের দাবি, কর্মসূচির আওতায় প্রাপ্ত চালের বস্তাগুলো খুললে দেখা যায় ভেতরে আস্ত চালের চেয়ে গুঁড়ো চালের পরিমাণ অনেক বেশি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বস্তায় চাল দলাপাকানো অবস্থায় রয়েছে এবং অনেক চালের মধ্যে পোকা ও দুর্গন্ধ পাওয়া গেছে যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
বর্তমান বাজারে জিনিসপত্রের উচ্চমূল্যের কারণে খেটে খাওয়া মানুষগুলো সরকারি এই সহায়তার ওপর অনেقটাই ভরসা করে থাকেন। কিন্তু নিম্নমানের ও পচা চাল বিতরণের ফলে তাদের সেই স্বস্তি এখন চরম হতাশায় রূপ নিয়েছে। এলাকার অসহায় মানুষগুলো এই দুর্নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দ্রুত চালের মান যাচাই করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি তুলেছেন।
এদিকে এই অভিযোগের বিষয়ে রসুলপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন যে ডিলাররা গত ডিসেম্বরেই এই চালগুলো গুদাম থেকে বুঝে নিয়েছিলেন এবং চাল খারাপ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, খাদ্যগুদামে চাল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিয়মিত ওষুধ ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া জানিয়েছেন যে খুচরা বা বস্তা খুলে চাল বিক্রির কোনো নিয়ম নেই এবং পুরো ৩০ কেজির বস্তাই সুবিধাভোগীদের দেওয়ার কথা। চালের মান নিয়ে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগটি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


