দূরদূরান্ত থেকে যাতায়াতের জন্য এখনও কম খরচে লোকাল ট্রেন ভরসা দেশের সর্বত্র। তবে সেই সফরেও ঝুঁকি কম নয়। দুর্ঘটনা থেকে যান্ত্রিক গোলযোগ, যে কোনও সময় সমস্যার মুখে পড়তে হয় নিত্যযাত্রীদের। যান্ত্রিক সমস্যা হলে তা একরকম। সময় লাগলেও সমাধান নিশ্চিত। কিন্তু যদি ‘হিউম্যান এরর’ অর্থাৎ কোনও মানুষ কোনও ভুল করে ফেলেন, তাহলে জটিলতা বাড়ে বই কমে না। ঝুঁকিও বেশি থাকে। ঠিক যেমনটা ঘটল গত ২১ অক্টোবর, দশমীতে, শিয়ালদহ স্টেশনে। ফাঁক পেয়ে লোকাল ট্রেনের কেবিনে উঠে হর্ন বাজিয়ে দিলেন মদ্যপ এক ব্যক্তি! তাতে সাময়িকভাবে উত্তেজনা ছড়ালেও পরিস্থিতি সামাল দেয় রেল পুলিশ। এই ভিডিওটি আপাতত ভাইরাল। যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’।
ঠিক কী ঘটেছিল? পূর্ব রেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, দিনটা ছিল ২১ অক্টোবর। বিজয়া দশমী। ঘড়ির কাঁটা ১১টা পেরিয়ে সাড়ে ১১টার দিকে এগোচ্ছে। সেসময় শিয়ালদহের ৯ নং প্ল্যাটফর্মে ঢোকে একটি লোকাল ট্রেন। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর গার্ডও নেমে যান তাঁর জন্য নির্ধারিত কেবিন থেকে। আসলে অন্তিম স্টেশনে ট্রেন যাতায়াতের সময়ে সাধারণত গার্ড বদল হয়। একজন নেমে আরেকজন কেবিনের দায়িত্ব নেওয়ার মাঝের সময়টুকুতেই যা ঘটার ঘটেছিল সেদিন। জানা যায়, ওইদিন লোকাল ট্রেনের কেবিনে উঠে পড়েন মানসিক ভারসাম্যহীন মদ্যপ এক ব্যক্তি। কিছু না বুঝে হর্ন বাজিয়ে দেন তিনি। নিমেষে চারপাশে শোরগোল পড়ে যায়। ট্রেনটি ছেড়ে দেবে ভেবে অনেকেই হুড়োহুড়ি করে ট্রেনে উঠতে যান।
সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য রেল পুলিশ ছুটে যায়। গার্ডেন কেবিন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় ওই মদ্যপকে। আশ্বস্ত করা হয় যাত্রীদের। তবে কার গাফিলতিতে কেবিনে রেলকর্মী ছাড়া বাইরের একজন ঢুকে যন্ত্রপাতিতে হাত দিল, সেই প্রশ্ন উঠছে। এমন ভুল তো যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকির। ফলে ঘটনাটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে রেল কর্তৃপক্ষ। তদন্তে ত্রুটি ধরা পড়লেই কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমনটা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে রেলকর্মীদের। অনেকেই বলছেন, বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে।
