বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক উপমন্ত্রী, সাবেক প্যানেল স্পিকার, বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি পারিবারিক সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল ৪টায় রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা, সন্ধ্যার পর মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপারমার্কেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে তৃতীয় জানাজা এবং রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মিরেশ্বরাই আলিয়া মাদ্রাসার ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ ও শেষ জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।
তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ পুরো দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে অটল নীতি, অনন্য ব্যক্তিগত নৈতিকতা, সাদামাটা জীবনযাপন ও সহজ বাচনভঙ্গির কারণে দলমত নির্বিশেষে সর্বমহলে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মনির উদ্দিন ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী জামিলা খাতুন এবং দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। তাঁর ছোট ভাই মহিউদ্দিন আহমেদ মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি মুন্সীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা আব্দুল হাই দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও তিনি সফলভাবে পালন করেন।
১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর সংসদীয় রাজনীতির সফল যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হন। মূলত তিনি বিলুপ্ত মুন্সীগঞ্জ-৪ আসনের প্রতিনিধিত্ব করতেন। নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে একবার এবং মুন্সীগঞ্জ-৪ আসন থেকে তিনবারসহ মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্যানেল স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে অভিভাবকতুল্য এই প্রবীণ নেতার প্রয়াণে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, অগণিত অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
