Published on
:
2 min read
২টি ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধ সহ্য করেও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। ইতিহাস স্পর্শ করতে এই ভবন দেখতে আসতেন বহু দেশি-বিদেশি পর্যটক। কিন্তু গত রবিবার বিক্ষোভের আগুনে কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ফ্রান্সের লিমোজ শহরে থাকা প্রায় দেড়শো বছরের পুরোনো টাউন হল। প্রাচীন এই ভবন এখনও মূলত পুর পরিষেবার সংক্রান্ত কাজের জন্য ব্যবহার করা হতো।
লিমোজের টাউন হলের খুঁটিনাটি:
(Town Hall of Limoges)
১৮৭৩ সালে তৈরি হয়েছিল এই ভবন। ১৮৮৩ সালে উদ্বোধন করা হয়।
আর্কিটেক্ট চার্লস-আলফ্রেড লেক্লার্ক (Charles-Alfred Leclerc) এই টাউন হলের ডিজ়াইন তৈরি করেছিলেন।
প্যারিস সিটি হলের ডিজ়াইনের অনুপ্রেরণা ছিল এর সৃষ্টিতে
ফ্রান্সের নব-জাগরণ স্থাপত্যশিল্পের অন্যতম বড় উদাহরণ ছিল এটি।
চুনাপাথর, গ্রানাইট ব্যবহার হয়েছিল এই টাউন হল তৈরিতে। একাধিক মূর্তি, মোজাইক ডিজ়াইন ব্যবহৃত হয়েছে।
লিমোজ ঘোরার সময়ে পর্যটকদের লিস্টে থাকে এই টাউন হল। বাইরে থেকে এর স্থাপত্য দেখতে ভিড় জমান পর্যটকদের অনেকেই।
১৭ অক্টোবরের হিংসাত্মক আন্দোলনে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এটি।
১৪৩ বছরের পুরোনো টাউন হলের অধিকাংশ কাঠামো নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আগুনে জ্বলে ধসে গিয়েছে ক্লক টাওয়ার। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, ওই ভবনের দুই-তৃতীয়াংশ আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
ইতিহাস জড়িয়ে এই ভবনের সঙ্গে:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে নাৎসিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম হটস্পট ছিল লিমোজে শহরের এই টাউন হল। ১৯৪০ সালে বেলজ়িয়ামের বিতারিত সরকারের (Government-in-exile) কাজও চলতো এই টাউন হল থেকে। ১৯৪০ সালে যখন নাৎসি বাহিনী ইউরোপের নানা দেশে আক্রমণ শুরু করল। সেই সময়ে বেলজ়িয়ামের মন্ত্রী ও সাংসদরা সে দেশ ছেড়ে পালিয়ে লিমোজে শহরে এসেছিলেন। ওই টাউন হল থেকে সরকার পরিচালনা করতেন তাঁরা। ইতিহাস অনুযায়ী, সেই সময়ে ওই ভবনে ফ্রান্সের পাশাপাশি বেলজ়িয়ামের পতাকাও উড়ত।
যখন ফ্রান্স দখল নিয়েছিল নাৎসি বাহিনী। সেই সময়ে লিমোজে শহর হয়ে উঠেছিল নাৎসি-বিরোধী যুদ্ধের অন্যতম বড় কেন্দ্র। বিশেষ করে ইহুদিদের নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে বাঁচানো এবং ফ্রান্সের নাৎসি-বিরোধী যোদ্ধা (Maquis)-দের রেশন, অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের জন্য বহু সাহায্য করেছিলেন এই শহরের পুর-প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকা একাধিক ব্যক্তি।
ফ্রান্সে ভয়াবহ আন্দোলন:
ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি, তেলের দাম বেড়ে চলা, স্কুলগুলির করুণ দশা, জন পরিষেবা নিয়ে বিপুল ক্ষোভ- এমন নানা কারণে ফ্রান্সের নানা শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছিল। প্যারিস, মার্সেইলি, নিস, বুরদো, লিমোজ-সহ একাধিক বড়-মাঝারি শহরে চলা বিক্ষোভ শনি ও রবিবার হিংসাত্মক রূপ নেয়। লিমোজের এই ঘটনা ছাড়াও, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে প্যারিসেও। একাধিক জায়গায় লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
নোত্রে দামের সঙ্গে তুলনা:
লিমোজের টাউন হলের এই ঘটনা বহু বাসিন্দাকে মনে করাচ্ছে নোত্রে দাম ক্যাথিড্রালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। ২০১৯ সালে একটি অগ্নিকাণ্ডে কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল প্রাচীন এই সৌধ। যদিও পরে তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই অগ্নিকাণ্ড একটি দুর্ঘটনা ছিল। ইচ্ছাকৃত আগুন লাগানোর ঘটনা ছিল না।