

সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার রাতে রাজধানীর আলাদা দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা হলেন– অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা। সোমবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্টতা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দেবাশীষ বড়ুয়া ও গুলশান আরাকে গ্রেফতার করা হয়েছ।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ ২১ জানুয়ারি
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, পাঁচ ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২১ জানুয়ারি। এরপর দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ হবে ৪ ফেব্রুয়ারি। ২৯ এপ্রিল হবে তৃতীয় ধাপের। আর চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ যথাক্রমে অনুষ্ঠিত হবে ১৩ ও ২৭ মে। সংবাদ সম্মেলনেইসি সানাউল্লাহ জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মিটিং করা হবে। বাংলাদেশ আর সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচনের পথে হাঁটবে না বলেও জানান তিনি। এর আগে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণের জন্য আজ সকালে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শুরু হয়। এতে চার নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লার মেয়েটা তিনদিন বাসায় নাই, অভিভাবকদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ দেখা যায়নি: রাষ্ট্রপতি
নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতির উন্নতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শিশু একাডেমিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয়, এটি একটি অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা মন্তব্য করে রাষ্ট্রপ্রধান কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাল্যবিয়ে রোধ এবং সমাজে তাদের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় বিদ্যালয়, সামাজিক মাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।’ রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘শিশুবিয়ে রোধে দারিদ্র্য দূরীকরণ, অবৈতনিক শিক্ষা, উপবৃত্তি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন যাচাই এবং কন্যাশিশুর উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করছে সরকার।’ কুমিল্লার স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যার বিষয়টি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এগিয়ে গেলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছি। সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা অভিভাবকদের দায়িত্ব। কুমিল্লার মেয়েটা তিনদিন বাসায় নাই, অভিভাবকদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ দেখা যায়নি।’ অভিভবাকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা অভিভাবকদের দায়িত্ব। কন্যাশিশুর শিক্ষা কোনো দয়া নয়- এটি তার মৌলিক অধিকার, আর তার নিরাপত্তা বজায় রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। একটি কন্যাশিশুর জন্মকে একটি নতুন স্বপ্ন, আগামী দিনের সম্ভাবনা এবং একজন গর্বিত নাগরিকের জন্ম হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এক ডানায় ভর করে যেমন কোনো পাখি উড়তে পারে না, তেমনই নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না।’ অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিব এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে কানাডার প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় স্থান পায়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি জানিয়েছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ কানাডার মতো বন্ধুরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তাঁদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। কানাডার প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাই রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। জ্বালানি খাতে সহযোগিতার আগ্রহ কানাডার বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ক্ষেত্রে কানাডা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে বলে বৈঠকে জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কানাডার এ প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানানো হয়। কারিগরি শিক্ষা ও নার্সিং প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। বৈঠকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতে দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহের কথা জানায় কানাডা। দেশটি বর্তমানে এ খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ডাল ও তৈলবীজের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন এবং সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা। এ সময় আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) মাধ্যমে বাংলাদেশে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। বৈঠকে সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে কৃষি খাতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা আরও সুনির্দিষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সহযোগিতা পেতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একীভূত করা, বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচির লক্ষ্য নির্ধারণ আরও কার্যকর করা এবং এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব। তিনি বলেন, মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পরিচালনার পাশাপাশি মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ার বিষয়ে তাঁর দেশের আগ্রহ রয়েছে। এ অর্থায়ন থেকে বাংলাদেশেরও উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি পরিচালনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা। বৈঠকে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়দের অবদানের প্রশংসা করেন রণদীপ সরাই। তাঁদের উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানান কানাডার প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান রণদীপ সরাই। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কানাডার পক্ষে দেশটির ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার অজিত সিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য দিল রাজু
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলার তদন্তে তার প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী রাজুকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার যেতে রাজু তাজমিনকে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তাজমিন হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে রাজুর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে আটক করা হয়। এদিকে কলাতলী এলাকার একটি হোটেলের কর্মচারী রাজু পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ। যা মামলার তদন্তে সহায়তা করবে বলে জানানো হয়। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. অহিদুর রহমান বলেন, রাজুকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। মূল ঘটনার সঙ্গে কক্সবাজারে আসার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক রাজুকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে জানিয়ে অহিদুর রহমান বলেন, মূল ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে যা তদন্তকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলেও জানান তিনি। তবে তদন্তের স্বার্থে সে সব তথ্য বিস্তারিতভাবে জানাতে চাননি এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, তাজমিন রাজুর কাছে এসেছিলেন এবং এক রাত তার কাছে ছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজু স্বীকার করেছে। পরদিন তাকে গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন বলেও জানায় সে। রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে তাদের পরিচয় হয় এবং প্রায় তিন মাস ধরে যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্র ধরেই তাজমিন কক্সবাজারে এসেছিল বলে দাবি করে রাজু। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, রাজুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। কুমিল্লা থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এলে তাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তা না হলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে কক্সবাজারে অবস্থান করা হোটেলটির রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে তাজমিনের সেখানে অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিন তলা আবাসিক হোটেলটির রেজিস্টারে উল্লেখ রয়েছে, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার স্ত্রী পরিচয়ে তাজমিন ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। রেজিস্টারে তাজমিনের নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’, বয়স ১৮ বছর। সেখানে রিয়াজের পরিচয় দেওয়া হয় লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিন মাস আগে ইনস্টাগ্রামে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলত। গত ৪ অক্টোবর হাতঘড়ি বান্ধবীকে দিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের ঝগড়া হয়। এ ঘটনার পর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যান। সেখান থেকে রিয়াজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। রিয়াজ তাকে কক্সবাজারে চলে আসার জন্য বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠান। আরও জানা যায়, তাজমিন কুমিল্লায় ফিরে সিএনজিতে ওঠার পরও রিয়াজের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। এ সময় চালকের বিস্তারিত তথ্যও তিনি রিয়াজকে জানিয়েছিলেন। রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরদিন বিভিন্ন টেলিভিশনে তাজমিনের ধর্ষণ ও হত্যার খবর দেখে বিস্তারিত জানে বলে জানা গেছে। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাজমিনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন এই কথিত প্রেমিক রাজু। তার দাবি, রাতে তাজমিন কুমিল্লা শহরের বাসায় গিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ দেখতে পায়। পরে মা-বাবাকে ফোন করেও সাড়া না পেয়ে বিষয়টি তাকে জানায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসায় ঢুকতে না পেরে তাজমিন পরে এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে। সকালে বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা জানালে তিনি তাজমিনকে ভিডিও কল করেন। এ সময় তাজমিনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পান তিনি। পরে এ নিয়ে তাজমিনকে বকাঝকা করেন বলে দাবি করেন ওই ব্যক্তি।

বায়ুদূষণ রোধে নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলিদূষণ কমাতে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-কে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে প্রচলিত ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। রোববার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রিহ্যাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজে ধুলা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নির্মাণস্থলে ধুলা প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণ ও মেরামতকাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশগত বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বাড়াতে হবে। নির্মাণস্থল যথাযথভাবে ঘিরে রাখা, মাটি-বালিসহ নির্মাণসামগ্রী ঢেকে সংরক্ষণ এবং পরিবহনের সময় যানবাহন আচ্ছাদিত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রী ও বর্জ্য পরিবহনকারী যানবাহনের চাকা পরিষ্কার করে সড়কে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক ও ফুটপাতে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রেখে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং ধুলিদূষণ ঘটানো থেকে বিরত থাকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, নির্মাণস্থল ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন কমপক্ষে দুইবার পানি ছিটাতে হবে। ধুলার মাত্রা বিবেচনায় প্রয়োজনে আরও ঘন ঘন পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। নির্মাণবর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা বা পোড়ানোর পরিবর্তে দ্রুত পরিবেশসম্মত উপায়ে অপসারণ করতে হবে। সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ধুলিদূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা প্রতিটি নির্মাণ প্রকল্পের দৈনন্দিন কার্যক্রমের অংশ করতে হবে। নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নিয়মিত পানি ছিটানো এবং বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি রিহ্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে প্রকল্পভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। রিহ্যাবের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ড. আলী আফজাল ও সিনিয়র সহসভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা ব্লকের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক ব্যবহারে নির্মাণব্যয় যেন না বাড়ে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া ব্লকের ব্যবহার সম্প্রসারণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়া ও বিল্ডিং কোডে ব্লক ব্যবহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ব্লকের ওপর ভ্যাট, কর ও কাঁচামাল আমদানির শুল্ক যৌক্তিকীকরণের প্রস্তাবও উঠে আসে। নির্মাণ প্রকল্পে পরিবেশগত বিধিবিধান প্রতিপালন জোরদার, প্রকল্পভিত্তিক অগ্রগতির তথ্য সংগ্রহ এবং নিয়মিত পরিবীক্ষণের ওপরও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং রিহ্যাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


