চোরবাগানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত সন্দীপ বেজ ও টগর বেজ-এর পরিবারের সাথে সাক্ষাৎছবি: অর্ণব চক্রবর্তী
Published on
:
2 min read
সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আলো মুছে গিয়ে নেমেছে অকাল শোকের নিকষ আঁধার। কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপ হয়ে উঠেছিল মৃত্যুকূপ। বিশৃঙ্খলার জেরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ যায় ১৯ জনের। শোকের আবহে সেই শোকগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবমীর সকালে স্বজন হারানোর যন্ত্রণায় বিধ্বস্ত পরিবারগুলির কাছে পৌঁছে সান্ত্বনা দিলেন তাঁদের। পরিবারের সঙ্গে কথাতেও তাঁর মুখে শোনা গেল, চোরবাগানে ভুল ঘোষণার আফসোস। বলেন,‘মাইকে একটা ঘোষণা হয়েছিল। তাতেই সমস্যা তৈরি হয়।’
এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করে বিঁধলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেও। শোকের আবহে উদযাপন চালানোর সমালোচনায় শুভেন্দুর কটাক্ষ, ‘লক্ষ্মী পুজোর আগের দিন হড়পা বানে শতাধিক লোক ভেসে গিয়েছিলেন দার্জিলিং থেকে নাগরাকাটা। তারপরেও কার্নিভাল হয়েছে। মানুষ দেখছে। আগের সঙ্গে বর্তমানের তফাত লোক দেখতে পাচ্ছে।’
এ দিন প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রী বর্ধমানের বীরপুরে যান। চোরবাগান বিপর্যয়ে প্রাণ গিয়েছে ১৪ বছরের সন্দীপ বেজ ও তাঁর মা ৩৭-এর টগর বেজের। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন তিনি। তুলে দেন আর্থিক সাহায্যও। আশ্বাস দিয়ে জানান, দোষীরা শাস্তি পাবেন। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের কর্মরত বিচারপতির অধীনে তদন্ত কমিটি গড়ে দ্রুত তদন্ত শুরু ও শেষ হবে। চিফ জাস্টিস অফ কলকাতা হাইকোর্ট যাঁকে মনোনীত করবেন, তাঁর অধীনে তদন্ত হবে।’ এই বিষয়ে সোমবারই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে মুখ্যসচিব চিঠি লিখে অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এর পরে পূর্বতন রাজ্য সরকারের কাজের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কাজের তুলনা টেনেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন,‘আপনারা শুনেছেন কখনও সরকার পঁচিশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে? আপনার স্মরণে আছে নাকি? এই দুঃখের ক্ষতিপূরণ নেই। যে চলে গিয়েছে ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু পরের দায়িত্বটা তো পালন করতে হবে। এটা কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। অন্যজন করেনি বলে আমি করব না, তা হতে পারে না। এতে অনেকটাই মানসিক জোর তাঁরা পাচ্ছেন।’
এখানেই শেষ নয়, নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তোপ দেগে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই রকম ঘটনার পরে কোথাও কোন মুখ্যমন্ত্রী গিয়েছে? আছে ইতিহাস?’ অতীতের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে টেনে বলেন, ‘কলকাতায় বৃষ্টিতে ইলেকট্রিক শক লেগে ১৩ জন এক রাত্রে মারা গিয়েছিলেন। তারপরেও ডান্ডিয়া হয়েছিল। তার পরে লক্ষ্মী পুজোর আগের দিন হড়পা বানে শতাধিক লোক ভেসে গিয়েছিলেন দার্জিলিং থেকে নাগরাকাটায়। তার পরেও কার্নিভাল। আমাদের দায়িত্ব বোঝানোর কারও দরকার নেই। ছোট্ট ঘটনা, লাভ অ্যাফেয়ার্স, মেয়েটা অন্তঃসত্ত্বা ছিল। আগের মুখ্যমন্ত্রী যে রকম ভাষায় কথা বলত, সে ভাষায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কথা বলে না।’
তবে চোরবাগানের ঘটনার পরে সব থিম পুজোকে এক ব্র্যাকেটে ফেলে দায়ী করতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, থিম পুজো বন্ধ করে এর সমাধান হবে না। ভিড় ম্যানেজমেন্টকে গুরুত্ব দিয়ে খোলা-মুক্ত জায়গায় থিম পুজোর পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর। তা হলে ভিড়ে ঠাসাঠাসি পরিস্থিতি হবে না বলে দাবি শুভেন্দুর।
