

পবিপ্রবি পরিদর্শনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) পরিদর্শন করেছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনকালে অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। এ সময় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম, সমুদ্রসম্পদ নিয়ে গবেষণার সম্ভাবনা এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। কুয়াকাটার নিকটবর্তী অবস্থান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ওশানোগ্রাফি অনুষদ থাকায় সামুদ্রিক গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পরিদর্শন করেন এবং উপাচার্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করেন।
পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক গবেষণা কার্যক্রম, উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। এ ধরনের সহযোগিতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে গবেষণার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় আরও এগিয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।”
রোবটের ফুটবল থেকে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন
মানারাত ক্লাবস ফর কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের (এমসিসিএ) অধীনে আয়োজিত রাজধানীর প্রায় ৮৭ টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে 'MDIC STEM FEST 2026-27'। যেখানে খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত রোবটের ফুটবল খেলা থেকে শুরু করে স্বয়ংক্রিয় রোবটিক্স গাড়ির মতো সব প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী প্রকল্পে মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (এমডিআইসি) ক্যাম্পাস। আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবট ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প। নিজেদের উদ্ভাবন অতিথিদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সেগুলোর কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের প্রকল্প ঘুরে দেখেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব ও মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব উল আলম। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা ও প্রযুক্তির ব্যবহার দেখে তারা প্রশংসা করেন এবং বৃহত্তর পরিসরে অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ-লেভেল দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তাহিয়াদ ইসলাম তৈরি করেছে ‘রোবো সকার’ নামের একটি রোবট। ফুটবল খেলার উপযোগী করে তৈরি এ রোবটের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় দুটি রোবটকে একে অপরের বিপক্ষে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। প্রযুক্তির সঙ্গে খেলাধুলার সমন্বয় ঘটিয়ে নিজের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে এই শিক্ষার্থী। নিজের উদ্ভাবন সম্পর্কে তাহিয়াদ ইসলাম বলে, ‘আমি মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ-লেভেল সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। রোবট বানাতে আমার ভালো লাগে। এই রোবটটি তৈরি করতে আমার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে আরও সুন্দর ও উন্নত করতে চাই।’ তাহিয়াদের মতো প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনে আগ্রহী এ-লেভেল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মাহদী হাসান। সে তৈরি করেছে ‘লাইন ফলোয়িং রোবট’। ছোট গাড়ির মতো দেখতে রোবটটি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে সক্ষম। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় চলাচল ও প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার একটি বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরেছে সে। নিজের প্রকল্প সম্পর্কে মাহদী হাসান বলে, ‘আমি মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ-লেভেল ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। এই রোবট তৈরি করতে প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়েছে।’ শুধু রোবোটিকস নয়, উৎসবে গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম, উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী ও ট্রেজার হান্ট। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, দলগত কাজ এবং নতুন ধারণা উদ্ভাবনের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। উৎসবের প্রথম দিন সকাল ৯টায় তৃতীয় শ্রেণি থেকে এ-২ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের গণিত অলিম্পিয়াডের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাধারণ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং সপ্তম থেকে এ-২ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞান ও রসায়ন অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয় রোবোটিকস ও মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম। বেলা আড়াইটা থেকে ট্রেজার হান্ট এবং বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সপ্তম শ্রেণি থেকে এ-২ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের আয়োজন রাখা হয়। স্টেম ফেস্টের আহ্বায়ক ও মানারাত সায়েন্স ক্লাবের ইনচার্জ ড. মো. মাকসুদুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। STEM Fest-এর প্রতিটি আয়োজন শিক্ষার্থীদের শেখার আনন্দ, সৃজনশীলতা, সহযোগিতা ও বাস্তবমুখী চিন্তার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা শুধু প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনই নয়, বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করা এবং নিজেদের জ্ঞানকে মানবকল্যাণে প্রয়োগ করার মানসিকতা অর্জন করুক।’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ওপর মানবসভ্যতার সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, আবিষ্কার ও গবেষণার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আজ যারা নিজেদের প্রকল্প ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে, তারাই আগামী দিনে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, বৈজ্ঞানিক সাফল্য মানুষের জীবনকে সহজ ও সমৃদ্ধ করলেও নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে সেই অর্জন মানুষের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না। তাই জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানবকল্যাণে সেই জ্ঞান প্রয়োগের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব উল আলম বলেন, এবারের স্টেম ফেস্টে রাজধানীর প্রায় ৮৭ থেকে ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের গবেষণা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি যে একদিন মানারাত থেকে একজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পাবেন। আসুন আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি এবং তার জন্য স্বপ্ন দেখি। আর এর জন্য আমাদের এখন থেকেই শুরু করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত সংযুক্ত ও পারস্পরিক নির্ভরশীল। তাই শুধু বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, নতুন উদ্ভাবনকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দক্ষতাও থাকতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ বিপণন, শৃঙ্খলা এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরার অধ্যক্ষ ড. মো. মোশারফ হোসেন, মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, গুলশানের উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল করীম ও অধ্যাপক তাহমীনা ইয়াসমীন, বালক শাখার সমন্বয়ক মহসিন কোরায়শী এবং স্টেম ফেস্টের বালিকা শাখার আহ্বায়ক রোকসানা খানমসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন-কে সভাপতি এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রেস প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম (শিবলী)-কে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতি (বাপাজস) এর কার্যনির্বাহী পরিষদের ২৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৭-২০২৮ দুই বছর মেয়াদী নবগঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যান্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল ইমলাম পান্না (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), সহ-সভাপতি মোহম্মদ আলী (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর) ও মো. নজরুল ইসলাম (শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান (চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এ্যানিমেল সায়েন্স ইউনিভার্সিটি) ও মো. সাইফুল ইসলাম (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), কোষাধ্যক্ষ মো. বাবুল হোসেন বাবু (পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আল-আমিন খান (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), দপ্তর সম্পাদক ফরহাদ রহমান সরকার (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. সালমান সাদেকীন চয়ন (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়), সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোস্তাক জাহান (বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস), ক্রীড়া সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম (চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)। এছাড়াও কমিটিতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনু (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), মো. বশিরুল ইসলাম (শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), গোলম মর্তুজা (রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), কামরুন নাহার (ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), খাদেমুল ইসলাম (হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), মো. সাহেদ হাসান (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়), খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), আবু সালেহ মুহাম্মদ মূসা (ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়)। সংগঠনটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি মোঃ আবুল কাসেম শিখদার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সকলের সম্মতিক্রমে কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভা শেষে সাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দ নতুন কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতি (বাপাজস)’ ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামীকালের ছুটি নিয়ে নতুন যা জানা গেল!
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী শনিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব অফিস খোলা থাকবে। দিনটি ১৭ অক্টোবর, ওই দিন ক্লাস বন্ধ থাকবে। তবে শিক্ষার্থীদের জরুরি প্রশাসনিক কাজ চলবে। এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে। কর্মকর্তারা বলেন, বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর ক্লাস শেষ হবে। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হবে। তবে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কার্যালয় খোলা থাকবে। অফিসের কাজও চলবে। তারা আরও জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর অফিস খোলা থাকবে। ক্লাসের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ছুটির তালিকা বহাল থাকবে। ওই তালিকায় ১৫ অক্টোবর ক্লাস শেষ করে ছুটি শুরুর কথা আছে। ছুটির মধ্যেও শনিবার শিক্ষার্থীদের কিছু জরুরি কাজ চলবে। এর মধ্যে আছে ফরম পূরণ। প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কার্যালয়ে কোনো দরকারি কাজ থাকলে শিক্ষার্থীরা তা সেরে নিতে পারবেন। এর আগে মাউশির একটি চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ১৭ অক্টোবর শনিবার শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সব অফিস খোলা থাকবে।

কুবিতে চালু হচ্ছে ভাষা ইন্সটিটিউট, বাধ্যতামূলক হচ্ছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা
উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বৈশ্বিক সম্ভাবনা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। এ লক্ষ্যে একটি ভাষা ইন্সটিটিউট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে প্রশাসন। প্রাথমিক পর্যায়ে পরিকল্পনা রয়েছে ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, চীনা ও আরবি ভাষা প্রশিক্ষণের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদনের পর মৌখিক অনুমতি মিলেছে ইউজিসি থেকেও। ইউজিসির নির্দেশনায় ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি ইতোমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ইউজিসিতে প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভাষা ইন্সটিটিউটের কার্যক্রম আগামী ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভাষা শেখার সুযোগ থাকবে বাইরের আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরও। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের প্রথম বা দ্বিতীয় সেমিস্টারে একটি ক্রেডিটভিত্তিক বেসিক ইংরেজি কোর্স এবং প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষে তৃতীয় ভাষার কোর্স করতে হবে। তৃতীয় ভাষার কোর্সটি নন-ক্রেডিট হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য তা করা হবে বাধ্যতামূলক। একাডেমিকের বাহিরে ভিন্ন সময়ে চলবে এটার শিখন কার্যক্রম। কোর্সের মেয়াদ হবে ছয়মাস মেয়াদি। কোন শিক্ষার্থী এক মেয়াদে কোর্স সম্পন্ন করে অকৃতকার্য হলে পুনরায় ভর্তি হতে হবে কোর্সে। এমনকি ভাষা শিক্ষা কোর্সে কৃতকার্যের সনদ ব্যতীত শিক্ষার্থীদের স্নাতকের সনদ আটকে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যেই অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পূর্ব-দক্ষিন কোণে এর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ছয় মাস মেয়াদি এই কোর্সের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারযোগ্য ভাষাজ্ঞান দেওয়া। বিদেশে উচ্চশিক্ষার সময় যোগাযোগ, দৈনন্দিন কাজ এবং সম্ভাব্য কর্মসংস্থানে এই দক্ষতা তাঁদের সহায়ক হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরলেন শিবির সভাপতি
তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ (ICBS-II)’-এ অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। তিনি এ মাসের ১০ তারিখ তুরস্কে যান। আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। এ সময় তাদের স্বাগত জানান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, ফাউন্ডেশন সম্পাদক আব্দুল মোহাইমেন, শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক জাকির হোসাইন এবং কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য রেজাউল করিমসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সফরকালে প্রতিনিধিদলটি তুরস্কের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যুব ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করে। সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি এসব সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ হয় প্রতিনিধিদলের সদস্যদের।


