মা ও ছেলের বয়সের ব্যবধান ২০ বছর। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সেই মা ও ছেলের একই সময়ে অনুষ্ঠিত হলো জানাজা এবং একই সময়ে পাশাপাশি সম্পন্ন হলো দাফনকার্য। শোকাবহ এমন ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে।
মারা যাওয়া ওই মা ও ছেলে হলেন— দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গোলাম মোস্তফা (জিএম) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়া শিক্ষক সৈয়দ মাহমুদ চাঁদের স্ত্রী সৈয়দা মাজেদা খাতুন (৭৫) এবং তার বড় ছেলে সৈয়দ মেজবাউর রশিদ সুমন (৫৫)। ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মা সৈয়দা মাজেদা খাতুন নিজ বাসভবনে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর শোকে কাতর হয়ে পড়েন বড় ছেলে মেজবাউর রশিদ সুমন। শোক সইতে না পেরে তিনি বিকাল থেকেই বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন। বুধবার রাতে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন ছেলে মেজবাউর রশিদ সুমন। এরপর তাকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে রাত সাড়ে ১১টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মায়ের লাশ বাড়িতে থাকা অবস্থায় ছেলের আকস্মিক মৃত্যু হওয়ায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। গোটা এলাকায় বিরাজ করে শোকার্ত পরিবেশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বাড়ি থেকে একসঙ্গে মা ও ছেলের লাশ নিয়ে যাওয়া হয় পার্শ্ববর্তী বারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে একই সময়ে মা ও ছেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক গোরস্থানে একই সময়ে পাশাপাশি মা ও ছেলেকে দাফন করা হয়।
এদিকে মা ও ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি, সাবেক পৌর মেয়র মাহমুদ আলম লিটন, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।