কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার চার মাস পেরিয়ে গেলেও তা পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ দিনের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি সম্প্রসারণ এবং এক মাসের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এতে আগের কমিটির মতো এবারও দীর্ঘদিন আহ্বায়ক কমিটিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নতুন কমিটিতে কোনো নারী শিক্ষার্থী না থাকায় নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, গত ১৯ জুন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ১২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ইংরেজি বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান শুভকে আহ্বায়ক এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবুল বাশারকে সদস্য সচিব করা হয়। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় আতিকুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, সাগর আহমেদ, রিয়াজ উদ্দিন অন্তর, সাফায়েত হোসেন সজল, মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত, আশরাফ উদ্দিন মুন্না, মাহফুজুর রহমান আরিফ, তরিকুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম শাওনকে।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার ১০ দিনের মধ্যে তা সম্প্রসারণ এবং এক মাসের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা ছিল। কিন্তু চার মাসেও এ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি।
শাখা ছাত্রদল কর্মীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ না নেওয়া হলে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা বাড়বে। পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমও দীর্ঘদিন আহ্বায়ক কমিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে।
এর আগে ২০২১ সালের ১৭ জুন তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। তিন মাসের জন্য গঠিত ওই কমিটি প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করে। এ সময়ে নতুন কমিটি গঠন কিংবা কাউন্সিলের আয়োজন করা হয়নি। এছাড়া ওই কমিটিতেও কোনো নারী শিক্ষার্থী ছিলেন না।
শাখা ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, মূল আহ্বায়ক কমিটি সম্প্রসারণের পাশাপাশি হল ও অনুষদ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনটি হল ও অনুষদের কমিটি ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। হল কমিটিগুলো ছয় সদস্যের হতে পারে। অনুষদ কমিটির সদস্য সংখ্যা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের তিনটি ও মেয়েদের দুটি আবাসিক হল রয়েছে। সূত্র জানায়, ছেলেদের বিজয়-২৪ হল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের কমিটি গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত। তবে কর্মী সংকটের কারণে মেয়েদের নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল ও সুনীতি-শান্তি হলে আপাতত কমিটি গঠন করা হচ্ছে না।
কমিটি সম্প্রসারণের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার বলেন, ‘যারা ৫ আগস্টের আগে ও পরে দলের জন্য কাজ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের মূল্যায়নের চেষ্টা করা হবে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। মূল কমিটিতে কতজন যুক্ত হবেন, যাচাই-বাছাই শেষ হলে তা বলা যাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আশা করছি পূজার পর প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে কমিটি চূড়ান্ত করা যাবে। হল কমিটিতে জায়গা না পাওয়া যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদের মূল কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কাছে সুপারিশ করা হবে। মূল কমিটিতে কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, সে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এখতিয়ারে।’
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘মূল কমিটি সম্প্রসারণের জন্য আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু নাম সাজিয়েছি। হল ও অনুষদ কমিটিগুলোও কয়েকটি ধাপে ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অনুমতি নিয়ে যেকোনো সময় এগুলো ঘোষণা করতে পারব।’
কমিটি ঘোষণায় বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে কমিটি ঘোষণায় কিছুটা সময় লাগছে। পাশাপাশি পদপ্রার্থীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। তাদের নিজ নিজ এলাকার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিষয়ে এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
