যশোরের তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসায় আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে আয়োজিত হিফয সবক সমাপন ও প্রদান অনুষ্ঠানে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে কুরআনের হিফয সম্পন্ন করা ৩০ শিক্ষার্থীর সাফল্য তুলে ধরে তাঁদের নৈতিক, আদর্শবান ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে পবিত্র কুরআনুল কারিমের হিফয কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্য, নৈতিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে যশোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসার হিফয সবক সমাপন ও সবক প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬। তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন, যশোর শাখার উদ্যোগে মাদরাসার অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেয মাওলানা হাবীবুল্লাহ মোহাম্মদ ইকবাল। প্রধান আলোচক ছিলেন যশোর আমিনিয়া কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন। বিশেষ অতিথি ছিলেন তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন, ঢাকা, বাংলাদেশের ডিরেক্টর এম এম রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর ও খুলনা জোনাল ইনচার্জ হাফেয মাওলানা আ খ ম মাসুম বিল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পবিত্র কুরআনের হিফয শুধু মুখস্থ করার বিষয় নয়; বরং কুরআনের শিক্ষা, নৈতিকতা, আদর্শ ও মূল্যবোধ নিজেদের জীবনে ধারণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে তানযীমুল উম্মাহর শিক্ষা কার্যক্রম প্রশংসনীয়।
প্রধান অতিথি হাফেয মাওলানা হাবীবুল্লাহ মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, কুরআনের হাফেজ তৈরি করা একটি মহৎ দায়িত্ব। তবে একজন শিক্ষার্থীকে শুধু হাফেজ হিসেবে নয়, বরং সৎ, আদর্শবান, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কুরআনের শিক্ষা যেন তাদের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও সমাজে প্রতিফলিত হয়, সে লক্ষ্যেই আমাদের কাজ করতে হবে। অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
বিশেষ অতিথি এম এম রবিউল ইসলাম বলেন, তানযীমুল উম্মাহ আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে কুরআন শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও নৈতিকতা বিকাশে কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা যেন ধর্মীয় শিক্ষায় দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি সমসাময়িক জ্ঞানেও এগিয়ে যেতে পারে, সে জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রধান আলোচক হাফেজ মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন তাঁর আলোচনায় কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব, হিফয সম্পন্ন করার পর কুরআনের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকেরা বলেন, তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসার সুশৃঙ্খল পরিবেশ, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে হিফয কার্যক্রমের সমন্বয় তাঁদের আশাবাদী করেছে। তাঁরা মনে করেন, সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি যুগোপযোগী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করছে। তাঁদের প্রত্যাশা, এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কুরআনের আলোয় আলোকিত হয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে তানযীমুল উম্মাহর যশোর শাখা থেকে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআনের হিফয সম্পন্ন করেছেন। আগামী ২৬ অক্টোবর ঢাকায় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তাঁদের পাগড়ি পরিয়ে সম্মানিত করা হবে।
আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, পরিকল্পিত হিফয কার্যক্রম ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসা যশোরের ধর্মীয় শিক্ষাঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে এ ধরনের আধুনিক হিফয শিক্ষার একটি বিশেষ উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকে। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
