October 14, 2026, 9:24 am
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনূসকে ফ্যাসিস্টদের হেনস্তা
Reporter Name
- Update Time : Wednesday, October 14, 2026
- 11 Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর শান্তিতে নোবেলজয়ী এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে সেখানে যাওয়ার পর বিমানবন্দরের লবিতে হুইলচেয়ারে থাকা অবস্থায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিদেশে অবস্থানকারী কিছু নেতাকর্মী তাকে উদ্দেশ করে অশালীন কটূক্তি ও স্লোগান দেন। পূর্বপরিকল্পিত এই ঘটনার ভিডিও চিত্র পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
তথ্য যাচাই ও গণমাধ্যম বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম বাংলা ফ্যাক্টসের পক্ষ থেকে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে হেনস্তাকারীদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, জ্যাকসন হাইটস আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা তানভীর কায়সার, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং নিউ ইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মেহরাজ ফাহমি। ইউনূস সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, এটি একান্তই একটি ব্যক্তিগত সফর ছিল এবং তিনি কন্যা সান্নিধ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করছিলেন। রাষ্ট্রীয় কোনো প্রটোকল বা বিশেষ নিরাপত্তা ছাড়াই তিনি সাধারণ যাত্রীর মতো এই সফরে গিয়েছিলেন যা আগে থেকেই ফাঁসের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীরা জেনেছিল।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কঠোর নিন্দা জ্ঞাপন করেছে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এই দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ মিশন স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে বিদেশে অবস্থানরত কোনো রাজনৈতিক সন্ত্রাসী বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশের বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে পতিত শক্তির দোসররা। এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের সময় এবং ইউরোপের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও প্রবাসে থাকা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের হেনস্তা করার একাধিক নজির রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক ও আইনি চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উগ্র কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


