সংবাদ · দেশ
সৌদি কারাগারে ৭৫০০ বাংলাদেশি, কী করবে সরকার
২৩/১০/২০২৬

সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দী আছেন। তাদের কেউ বিভিন্ন অভিযোগে আটক, কেউ দণ্ডিত। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কারাগারে থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, বিচারপ্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে, তারা আইনজীবী ও দোভাষীর সহায়তা পাচ্ছেন কি না এবং দণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ কতটা অবহিত—এসব প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায়।গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় বলা হয়, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয়নি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরও প্রথমে আসে সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘোষণার মাধ্যমে। পরে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার নথি ও রায়ের কপি চেয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বন্দী আছেন। বিভিন্ন সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বন্দীদের তালিকা পাঠায় এবং তাদের বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার তথ্য জানায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।কিন্তু এই তথ্যের পর প্রশ্ন থেকে যায়, সাড়ে সাত হাজার বন্দীর মধ্যে কতজন বিচারাধীন, কতজন দণ্ডিত, কতজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং কতজনের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি আছে? তাদের মামলার অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?দুই মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতিনজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের ঘটনা বাংলাদেশের কনস্যুলার নজরদারি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি গোপনীয় নথির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেট সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যে বন্দী তালিকা পেয়েছিল, তাতে নজরুল ও সুইটির নাম ছিল। তালিকায় নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক দেখানো হয়। সুইটিকে পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক দেখানো হয়েছিল। দুজনই সৌদি আরবের আল-মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।কিন্তু ওই তালিকায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের তথ্য ছিল না। কনস্যুলেটের নথিতেও তাদের বিরুদ্ধে তালিকাভুক্ত অভিযোগের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণায় উল্লেখ করা অভিযোগের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়নি। সৌদি আদালতের রায় ও বিচারপ্রক্রিয়ার নথি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই অসংগতির কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ, দুই বাংলাদেশি দীর্ঘদিন আটক ছিলেন—এ তথ্য কনস্যুলেটের কাছে থাকলেও তাদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ জানতে পারেনি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের পক্ষে আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল কি না, বিচার চলাকালে তারা আইনজীবী পেয়েছিলেন কি না কিংবা তাদের বক্তব্য আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই।কনস্যুলেটের নথি অনুযায়ী, দুই পরিবারের কেউ আইনি সহায়তা চেয়ে কনস্যুলেটে আবেদন করেননি বা যোগাযোগ করেননি। তবে পরিবারের আবেদন না থাকা মানেই বন্দীরা আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন—এমন সিদ্ধান্তও টানা যায় না। বন্দী নিজে, পরিবার ও কনস্যুলেটের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ কতটা ছিল, সেটিও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।৭৫০০ বন্দী, হিসাব কি স্পষ্টদুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের পর প্রকাশিত কনস্যুলার নথিতে পশ্চিম সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে ৩০৬ বাংলাদেশির বন্দী থাকার তথ্য এসেছে। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত অপরাধের আরও কয়েকটি মামলায় কারাদণ্ডের তথ্যও রয়েছে।তবে পশ্চিম সৌদি আরবের ৩০৬ বন্দীর এই হিসাব এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বলা দেশজুড়ে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বন্দীর সংখ্যা আলাদা পরিসরের। একটির সঙ্গে অন্যটির সরাসরি তুলনা করা যাবে না। একইভাবে, ৭ হাজার ৫০০ জনের সবাই দণ্ডিত, কিংবা তাদের সবার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে—এমন ধারণারও ভিত্তি নেই।সরকারের কাছে তাই শুধু বন্দীর মোট সংখ্যা থাকা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিয়মিত হালনাগাদ করা একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার, যেখানে বন্দীর পরিচয়, আটক হওয়ার তারিখ, অভিযোগ, মামলার বর্তমান অবস্থা, দণ্ড, আপিলের সুযোগ, আইনি প্রতিনিধিত্ব এবং সম্ভাব্য গুরুদণ্ডের তথ্য থাকবে। গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রেখে এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ মামলাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব।এখানে আরেকটি প্রশ্ন রয়েছে: সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে তালিকা পায়, তাতে শুধু নাম ও আটকের তথ্য থাকে, নাকি মামলার অগ্রগতি ও দণ্ডের তথ্যও নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত থাকে? নজরুল ও সুইটির নাম বন্দী তালিকায় থাকা সত্ত্বেও মৃত্যুদণ্ডের তথ্য না পাওয়ার ঘটনা এই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছে।সৌদি কারাগারে এত বাংলাদেশি কেনসৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা, পরিবহন, সেবা ও অন্যান্য খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করেন। তাদের উপার্জন দেশে পরিবারের জীবনযাপন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও আবাসনের ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সৌদি আরবে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা শুধু প্রবাসীকল্যাণের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও লাখো পরিবারের জীবনযাপনের সঙ্গেও যুক্ত।বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের কেউ স্থানীয় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হতে পারেন, কেউ কর্মক্ষেত্র বা ব্যক্তিগত বিরোধে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। আবার ভাষাগত সীমাবদ্ধতা, স্থানীয় আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা, অর্থের অভাব কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের দুর্বলতার কারণে কেউ নিজের পক্ষে যথাযথভাবে আইনি সহায়তা নেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। তবে এসব কারণ সব বন্দীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বন্দীদের মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন মেনে চলার দায়িত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে, আটক হওয়ার পর তারা অভিযোগ সম্পর্কে জানার, নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনেরও দায়িত্ব রয়েছে। বিদেশি নাগরিকের বিচার সৌদি আরবের নিজস্ব আইনি কাঠামোর অধীন হলেও, বাংলাদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা, পরিবারকে অবহিত করা এবং কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার প্রশ্নটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।দূতাবাসের দায়িত্ব কীসৌদি আরবে বাংলাদেশি বন্দীর সংখ্যা কয়েক হাজার হলে তাদের সবার মামলার প্রতিটি শুনানিতে কূটনীতিকদের উপস্থিত থাকা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। কিন্তু বন্দীদের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ, গুরুতর অভিযোগের মামলা চিহ্নিত করা, মৃত্যুদণ্ড বা দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনজীবী বা দোভাষীর সহায়তা পেতে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।প্রথম কাজ হতে পারে বন্দীদের তথ্যভান্ডার নিয়মিত হালনাগাদ করা। দ্বিতীয়ত, মৃত্যুদণ্ডসহ গুরুতর দণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা মামলাগুলোর জন্য বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তৃতীয়ত, বন্দী ও তাদের পরিবারের জন্য সহজে যোগাযোগযোগ্য হেল্পলাইন এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার নির্ভরযোগ্য পথ নিশ্চিত করা। চতুর্থত, কনস্যুলার কর্মকর্তারা নিয়মিত কারাগার পরিদর্শন করে বন্দীদের অবস্থা, যোগাযোগের সুযোগ ও সহায়তার প্রয়োজন যাচাই করতে পারেন।এ ছাড়া বন্দীদের তালিকা পাওয়ার পর শুধু নথি সংরক্ষণ করলেই হবে না; মামলার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য চাওয়ার একটি নিয়মিত পদ্ধতিও প্রয়োজন। কোনো বন্দীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে, রায় হয়ে গেলে কিংবা আপিলের সময়সীমা সামনে এলে সংশ্লিষ্ট মিশন যেন দ্রুত জানতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামপ্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সৌদি সরকারের কাছ থেকে রায়ের কপি পাওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, মিশনের গাফিলতি পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো, তদন্ত ও কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি বন্দীদের সুরক্ষায় কী ধরনের স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট করা।দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় দায়িত্ব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, তাদের আটক হওয়ার ঘটনা ২০২৩ সালের এবং তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল; এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করেছে, এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়।তবে ২০২৩ সালে আটক হওয়ার তথ্য এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে অবহিত না করার বিষয়টি এক নয়। প্রথমটি বন্দীদের আটক হওয়ার সময় নির্দেশ করে; দ্বিতীয়টি কনস্যুলার নজরদারি ও তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। কে কখন ক্ষমতায় ছিল, তা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হলেও একা সেটি দিয়ে কার কী প্রশাসনিক দায় ছিল, তা নির্ধারণ করা যায় না।এ জন্য জানতে হবে, কোন সময়ে কোন মিশন বন্দীদের তথ্য পেয়েছিল, তালিকায় কী লেখা ছিল, গুরুতর দণ্ডের সম্ভাবনা সম্পর্কে কোনো সতর্কবার্তা এসেছিল কি না এবং তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। নথিভিত্তিক তদন্ত ছাড়া শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করলে প্রকৃত ব্যর্থতার জায়গা আড়াল হয়ে যেতে পারে।কী করবে সরকারসৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে রায়ের কপি ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া জরুরি। পাশাপাশি নজরুল ও সুইটির পরিবারকে তথ্য জানানো, মরদেহ দেশে আনা এবং তাদের মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংগ্রহের উদ্যোগ চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে বন্দী অন্য বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে গুরুতর দণ্ডের ঝুঁকি আছে কি না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।সরকারের সামনে অন্তত তিনটি তাৎক্ষণিক কাজ রয়েছে। প্রথমত, ৭ হাজার ৫০০ বন্দীর তথ্য যাচাই করে তাদের অভিযোগ ও দণ্ডের ধরন অনুযায়ী হালনাগাদ হিসাব তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, মৃত্যুদণ্ড ও গুরুতর দণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বন্দীদের মামলা অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যালোচনা করা। তৃতীয়ত, বাংলাদেশি মিশনের নজরদারি ও আইনি সহায়তা কার্যক্রমের ঘাটতি কোথায়, তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা।দীর্ঘমেয়াদে সৌদি আরবের সঙ্গে বন্দীদের তথ্য বিনিময়, গুরুতর দণ্ডের বিষয়ে দ্রুত অবহিতকরণ এবং কনস্যুলার যোগাযোগের কার্যকর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা দরকার। বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের স্থানীয় আইন, নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড, আইনি সহায়তা চাওয়ার পদ্ধতি ও দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের নিয়ম সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়াও জরুরি।সৌদি আরবের কারাগারে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশির বন্দী থাকার তথ্য তাই কেবল একটি সংখ্যা নয়। এটি বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ব্যবস্থা, কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং নাগরিকের বিপদের সময়ে রাষ্ট্র কত দ্রুত পাশে দাঁড়াতে পারে—তারও পরীক্ষা। নজরুল ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের প্রকৃত ঘটনা ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি সরকার যদি বন্দীদের নিয়মিত নজরদারি ও আইনি সহায়তার স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, তাহলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে কার্যকর শিক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗