লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা কাকিনা পালপাড়ায় দেয়ালের একপাশে মসজিদ আর অপরপাশে মন্দির। একপাশে ধূপকাঠি অপরপাশে আতরের সুঘ্রাণ। প্রত্যেকে যে যার ধর্ম পালন করছেন। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল নিদর্শন। জানা যায়, ১৮৩৮ সালে কাকিনা পালপাড়ায় কালীমন্দির ও দুর্গামন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ১৪৪ বছর পর ১৯৮২ সালে একই স্থানে কাকিনা বেলতলা জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে যুগের পর যুগ ধরে দুই ধর্মের মানুষ বিভেদ ভুলে শান্তি-শৃঙ্খলভাবে পালন করে আসছে ধর্মীয় রীতিনীতি। মসজিদ কমিটির সভাপতি শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মন্দিরের কয়েক যুগ পর কাকিনা বেলতলা মসজিদ নির্মাণ করা হয়। কয়েক যুগ থেকে এখানে যে যার ধর্ম পালন করে আসছে। কোনো সংঘাত নেই। ইনশা আল্লাহ দুই সম্প্রদায়ের মানুষ এভাবেই বিভেদ ভুলে মিলেমিশে থাকবে। মন্দির কমিটির সভাপতি অশ্বনী কুমার পাল জানান, মসজিদ ও মন্দিরের টাকা দিয়ে দুই ধর্মের মানুষ মাঝে দেয়াল নির্মাণ করেছি। পূজাপার্বণে কোনো বিঘœতা ঘটে না। ওনারা যখন নামাজ আদায় করেন তখন পূজা-অর্চনা বন্ধ থাকে। আমাদের অনুষ্ঠান চলাকালে আজ অবধি কোনো সমস্যা হয়নি। ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, এখানে প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পূজা-অর্চনা করে আসছে। সনাতন ধর্ম ও মুসলিম উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, হবিগঞ্জের বাহুবলে মসজিদের পাশেই রয়েছে মন্দির। দুটি উপাসনালয়ের দরজাও মুখোমুখি। একদিকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি, অন্যদিকে চলে পূজা-অর্চনা। অথচ এ নিয়ে নেই কোনো বিরোধ। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ভালোবাসায় দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি চলছে দুই ধর্মের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রম। পূজা উপলক্ষে রং করা হয় মসজিদের সীমানাপ্রাচীর। আবার ঈদ এলে রং করা হয় মন্দিরের সীমানাপ্রাচীর। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এমন দৃষ্টান্ত কামাইছড়া চা-বাগান জামে মসজিদ ও দুর্গামন্দির। ঢাকা-সিলেট পুরোনো মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৯ সালে। প্রায় ১৯ বছর পর ১৯৭৮ সালে সেখানেই নির্মিত হয় চা-বাগান জামে মসজিদ। দীর্ঘ সময় ধরে পাশাপাশি অবস্থান করছে উপাসনালয় দুটি। স্থানীয় মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে গড়ে উঠেছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সম্পর্ক। মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, উপাসনালয়ের দরজা দুটি প্রায় বরাবর। প্রায় ৫০ বছর ধরে পূজা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। পূজার সময় নামাজের সময় হলে তারা তাদের অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। নামাজ শেষ হলে আবার পূজা শুরু করেন। কোনোদিন কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়নি। কামাইছড়ার এলাকার এমন সম্প্রীতি সবার জন্য অনুপ্রেরণা।’ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোপাল গোয়ালা বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম সব সময় মিলেমিশে থাকি। এখানে কোনোদিন কোনো সমস্যা হয়নি। একে অপরের ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সম্মান ও সহযোগিতা করি। আশা করি, ভবিষ্যতেও এ সম্প্রীতি ও সৌহার্দ অটুট থাকবে।’ ইউএনও উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘কামাইছড়ায় দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি অবস্থান করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এটি আবহমানকাল থেকে চলে আসা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের উজ্জ্বল উদাহরণ।
