স্পোর্টস: বিদেশের মাটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কয়েকটি স্মরণীয় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন পেসাররা। জাতীয় দলে থাকা অভিজ্ঞ ও তরুণ পেসারদের পারফরম্যান্সে আশার আলো দেখলেও দেশের পেস বোলিংয়ের গভীরতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের মতো অভিজ্ঞ পেসারদের পাশাপাশি হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন, সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও নাহিদ রানাও নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। তবে দেশের শীর্ষ পেসারদের মানের কাছাকাছি আরও বোলার তৈরি করাকে এখন গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সালাহউদ্দিন।
মিরপুরের একাডেমি মাঠে পেসার হান্ট কর্মসূচি চলাকালে সালাহউদ্দিন বলেন, জাতীয় দলের সেরা পাঁচ-ছয়জন পেসার বর্তমানে ভালো সময় পার করছেন। তবে তাঁদের মানের ধারাবাহিকতা অন্য বোলারদের মধ্যে তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘সেরা পাঁচ-ছয়জন বোলার এখন তাদের সোনালী সময় পার করছেন। তবে বাকিরা সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছেন না। খুব ভালো মানের পাঁচ-ছয়জন বোলার আমাদের আছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো অন্যদেরও তাদের মানের কাছাকাছি নিয়ে আসা।’
সালাহউদ্দিনের মতে, শুধু কয়েকজন নির্ভরযোগ্য পেসারের ওপর নির্ভর করলে দীর্ঘ মেয়াদে বোলিং বিভাগকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। জাতীয় দলের জন্য আরও বেশি মানসম্পন্ন বোলার তৈরি করতে হবে।
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে মানসম্মত পেস বোলারের সংখ্যা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিসিবির এই কোচ। তাঁর মতে, ঘরোয়া পর্যায়ে ভালো পেসারদের উপস্থিতি ব্যাটারদের উন্নতিতেও ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত শক্তিশালী বোলিংয়ের মুখোমুখি হলে ব্যাটাররা নিজেদের দক্ষতা আরও শাণিত করার সুযোগ পাবেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘মাত্র পাঁচজন দিয়ে এটা সম্ভব হবে না। ঘরোয়া ক্রিকেটে যদি ভালো বোলাররা না খেলেন, তবে ব্যাটারদের উন্নতি হবে না। ভালো মানের পেসারের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।’
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, পেস বোলিংয়ের উন্নয়নকে শুধু জাতীয় দলের প্রয়োজন হিসেবে দেখলে চলবে না; ঘরোয়া ক্রিকেটেও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্টে হাসান মাহমুদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন সালাহউদ্দিন। তাঁর মতে, বোলিংয়ের জন্য খুব বেশি সহায়ক নয়—এমন উইকেটেও হাসান যেভাবে বল করেছেন, তা ছিল প্রশংসনীয়।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘যে উইকেটে কোনো বাউন্স বা মুভমেন্ট ছিল না, সেখানে হাসান যেভাবে বল করেছে, সেটি অসাধারণ।’
বাংলাদেশের পেসারদের সাম্প্রতিক সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিতে হলে প্রতিভাবান বোলার খুঁজে বের করা, তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সালাহউদ্দিনের বক্তব্যে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরই গুরুত্ব পেয়েছে।
