সাতটি রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য এককালীন ১ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর।
এ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সাতটি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে অথবা তার পরিবারের সদস্য কিংবা আইনানুগ অভিভাবক অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। তবে আর্থিক সহায়তা পেতে রোগীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
সাতটি রোগ হলো ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়া।
যেভাবে করবেন আবেদন
আর্থিক সহায়তা পেতে প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন করার পর আবেদনপত্রের স্বাক্ষরিত প্রিন্ট কপি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, শহর সমাজসেবা কার্যালয় বা হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সমাজসেবা অধিদপ্তর অথবা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়েও আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
আবেদনের সঙ্গে রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি প্রয়োজন হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারী, অভিভাবক বা আইনানুগ অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবিও জমা দিতে হবে। রোগীর এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবিও প্রয়োজন হবে।
এ ছাড়া আবেদনে নমিনির প্রয়োজনীয় তথ্য, রোগী বা আবেদনকারী কিংবা অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং ব্যাংক প্রদত্ত চেক বইয়ের কভার পাতার ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে। চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি ও রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপিও জমা দিতে হবে।
রোগভেদে যেসব রিপোর্ট লাগবে
ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে টিস্যু ডায়াগনস্টিক, হিস্টোপ্যাথলজি, সাইটোপ্যাথলজি, বোন ম্যারো বা বায়োপসি রিপোর্টসহ প্রযোজ্য পরীক্ষার কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয়ের রিপোর্ট দিতে হবে। পাশাপাশি ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন-সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রয়োজন হবে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস নেওয়ার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা সেবাকেন্দ্রের চিকিৎসকের দেওয়া সনদও জমা দিতে হবে।
লিভার সিরোসিসে আক্রান্তদের লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ফাইব্রোস্ক্যান রিপোর্টসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরীক্ষার কাগজপত্র দিতে হবে। প্যারালাইসিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এমআরআই বা সিটি স্ক্যান রিপোর্ট কিংবা রোগের প্রমাণযোগ্য ছবি জমা দেওয়া যাবে।
হৃদরোগীদের জন্য এনজিওগ্রাম বা ইকোকার্ডিওগ্রাম রিপোর্টসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরীক্ষার কাগজপত্র প্রয়োজন হবে। থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়ায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস বা রোগ শনাক্তকরণে প্রযোজ্য অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সাধারণত অনধিক এক বছর আগের হতে হবে। এসব রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত ফিল্ম, প্লেট বা ইমেজের ফটোকপিও সংযুক্ত করা যাবে। মূল রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
কারা পাবেন আর্থিক সহায়তা
আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে রোগীর পারিবারিক আয় ও ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীরা অগ্রাধিকার পাবেন। যাদের দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন এবং জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী, শিশু, নারী ও প্রবীণ রোগীদের বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া, জাল কাগজপত্র জমা দেওয়া কিংবা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এ-সংক্রান্ত অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে আবেদন বাতিল বা তালিকা সংশোধন করা হতে পারে। তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কেউ আর্থিক সহায়তা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
কতবার পাওয়া যাবে এই সহায়তা
নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, একজন আবেদনকারী একই অর্থবছরে একবার এবং জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ তিনবার এ আর্থিক সহায়তা পেতে পারবেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রত্যেক রোগীকে এককালীন ১ লাখ টাকা দেওয়া হবে।
সরকারের এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো দুরারোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানো এবং চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তাদের পরিবার যেন আর্থিক সংকটে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করা।
