কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে একটি টাইম বোমা ও দুই বোতল পেট্রল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ঢাকা থেকে আসা বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় আখড়াবাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আখড়াবাড়ির ভেতরে একটি ব্যাগে বোমা থাকার খবর পেয়ে পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে। সোমবার সকালে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি বলেন, রাতে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানতে পারেন, আখড়াবাড়ির ভেতরে বোমা রয়েছে। এরপর সেটি ঘিরে রাখা হয়। এটি একটি টাইম বোমা ছিল, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারত। সকালে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এসে সেটি নিষ্ক্রিয় করে। আখড়াবাড়ির নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি পুরো প্রাঙ্গণে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আখড়াবাড়ির মূল ফটক পেরিয়ে ডান পাশে একটি নারকেলগাছের নিচে সাদা ব্যাগে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর পাশেই ছিল পুলিশ বক্স। বিষয়টি জানার পরপরই সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ। নিরাপত্তার স্বার্থে রাতেই আখড়াবাড়ির ভেতরে অবস্থানরত সাধু-ফকিরদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরে খবর দেওয়া হলে সোমবার সকালে ঢাকা থেকে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দলটি সন্দেহজনক ব্যাগ তল্লাশি করে একটি টাইম বোমা ও দুই লিটার পেট্রল উদ্ধার করে। পরে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এদিকে লালন শাহের তিরোধান দিবস উপলক্ষে গত শনিবার থেকে আখড়াবাড়িতে তিন দিনের আয়োজন চলছে। রোববার ছিল আয়োজনের দ্বিতীয় দিন। সোমবার রাত পর্যন্ত সেখানে অনুষ্ঠান চলার কথা রয়েছে। বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আখড়াবাড়ি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব বস্তু আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে রেখে গেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। হয়তো কেউ আতঙ্ক ছড়াতে এমনটি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে আখড়াবাড়ি প্রবেশে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হবে। পুলিশের পাশাপাশি দুই প্লাটুন বিজিবি কাজ করবে। আখড়াবাড়ি প্রবেশের সবগুলো সড়ক ও মোড়ে মোড়ে তল্লাশি চলবে। পুরো আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে তল্লাশিও চালানো হবে।”
এমএ
