অনলাইন ডেস্ক
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর আগামী বছর থেকে বর্ষা মৌসুমে আর কোনো পাবলিক পরীক্ষা না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছর থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো পাবলিক পরীক্ষাগুলোকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময়ে ফিরিয়ে আনা।
তিনি বলেন, বর্ষাকালে পরীক্ষা নেওয়ার ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসন—সব পক্ষই নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতেই পরীক্ষার ক্যালেন্ডার পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও পরীক্ষার নতুন সময়সূচির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাবর্ষ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সময়ের অপচয় কমবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে।
করোনা মহামারির পর দেশের পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আসে। ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করে অটোপাস দেওয়া হয়। এরপর ২০২১ সালে ডিসেম্বরে, ২০২২ সালে নভেম্বরে, ২০২৩ সালে আগস্টে এবং ২০২৫ সালে জুনের শেষ দিকে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছর পরীক্ষা ৭ জুন শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবির মুখে তা পিছিয়ে ২ জুলাই শুরু হয়। ফলে পরীক্ষা ভরা বর্ষার মধ্যে পড়ে যায়।
শিক্ষাবিদদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার সময় নির্ধারণে আবহাওয়া ও দুর্যোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, কোমরসমান পানি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান ও ন্যায্য পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক জেসমিন তাসলিমা বানু বলেন, প্রায় ১৩ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ায় চলমান পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন করা প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত জটিল। অন্যদিকে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, পরীক্ষা ৭ জুন শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবির কারণে তা প্রায় এক মাস পিছিয়ে দেওয়ায় এবার পরীক্ষা বর্ষার মধ্যভাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
