বিয়ের পর অনেক নারীর থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়ে। এ কারণে কারও কারও মনে প্রশ্ন জাগে, বিয়ে কিংবা নতুন জীবনের মানসিক চাপের সঙ্গে কি থাইরয়েডের সমস্যার কোনো সম্পর্ক রয়েছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীর জীবনের যেকোনো পর্যায়ে থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে প্রজননক্ষম বয়সে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। সাধারণত ১৮ বছর বয়স থেকে মেনোপজের আগপর্যন্ত কোনো এক সময়ে অনেক নারীর থাইরয়েডের সমস্যা শুরু হতে পারে।
বিয়ের পর কেন ধরা পড়ে থাইরয়েডের সমস্যা?
বিয়ের পর অনেক নারীই প্রজননক্ষম বয়সে থাকেন। এই সময়টিতে থাইরয়েডের সমস্যার উপসর্গ দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই বিয়ের পর সমস্যা ধরা পড়লেই বিয়ে বা এর সঙ্গে যুক্ত মানসিক চাপকে কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
আবার অনেকের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা থাকলেও স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে তারা বুঝতেই পারেন না যে তাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে।
গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার সময় কিংবা গর্ভবতী হওয়ার পর মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। এসব পরীক্ষার মধ্যে থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষাও রয়েছে। এর মাধ্যমে আগে থেকে থাকা উপসর্গহীন থাইরয়েডের সমস্যা শনাক্ত হতে পারে।
এ ছাড়া কারও গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী থাইরয়েড পরীক্ষা করাতে পারেন। পরীক্ষার মাধ্যমে এমন হরমোনজনিত সমস্যাও ধরা পড়তে পারে, যার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ আগে থেকে ছিল না।
মানসিক চাপের সঙ্গে কি সম্পর্ক আছে?
বিয়ের পর নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, সংসারের দায়িত্ব সামলানো কিংবা পারিবারিক নানা পরিস্থিতির কারণে অনেক নারীর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে শ্বশুরবাড়ির পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো কারও কারও জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
এমন পরিস্থিতিতে থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়লে অনেকে মানসিক চাপকেই এর কারণ বলে মনে করেন। কিন্তু বিয়ে বা শ্বশুরবাড়ির চাপ সরাসরি থাইরয়েডের সমস্যা সৃষ্টি করে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
বিয়ের পর সমস্যা ধরা পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে এ সময় গর্ভধারণের পরিকল্পনা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিংবা গর্ভধারণসংক্রান্ত জটিলতার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। এসব কারণে আগে থেকে থাকা অশনাক্ত থাইরয়েডের সমস্যা সামনে আসতে পারে।
কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি?
থাইরয়েডের সমস্যার উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ মনে হতে পারে। ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন কিংবা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। তাই এসব লক্ষণ দেখেই থাইরয়েডের সমস্যা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে।
গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে থাইরয়েডের সমস্যা আছে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। আগে থেকে থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে গর্ভাবস্থায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য সহায়ক।
সবশেষে মনে রাখা দরকার, বিয়ের পর থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়লেই বিয়ে বা মানসিক চাপকে দায়ী করা যায় না। কখনো আগে থেকে থাকা উপসর্গহীন সমস্যা পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হয়। তাই কুসংস্কার বা অনুমানের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।