আবর্জনার স্তূপ আর দুর্গন্ধময় পরিবেশের চেনা রূপ পেছনে ফেলে ময়মনসিংহের বাঁশবাড়ি কলোনি এখন সেজেছে সবুজের সমারোহে, যা নজর কেড়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। কয়েক জন তরুণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই ‘সবুজ কলোনি’র দৃশ্য সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর দৃষ্টিগোচরে আনেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই মন্ত্রী সশরীরে এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের এই প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
একসময় অবহেলা আর অপরিচ্ছন্নতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই কলোনির চিত্র বদলানোর নেপথ্যে রয়েছেন চার তরুণ—মুরাদ হোসেন কানন, মেহেদী হাসান মুহিত, সাইফুল ইসলাম ও উত্তম দাস। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এলাকার রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের পর এই যুবকদের মাথায় আসে এলাকাটিকে নান্দনিক রূপে সাজানোর আইডিয়া। সেই ভাবনা থেকেই ২০২২ সালে প্রায় ৮০০ ফুট দীর্ঘ রাস্তার দুই পাশের দেওয়ালজুড়ে শুরু হয় ব্যতিক্রমী সবুজায়ন। তারকাঁটার বেড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় জবা, হাসনাহেনা, জুঁই, বেলি ও বাগানবিলাসসহ নানা প্রজাতির ফুল, ফল ও ভেষজ গাছ। পথচারী বা দর্শনার্থীদের সচেতন করতে গাছের পাশে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ছোট সাইনবোর্ড, যেখানে লেখা রয়েছে—‘এ গাছগুলো বিক্রির জন্য নহে।’
নিজেদের ব্যক্তিগত অর্থায়ন এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে এই বাগানের নিয়মিত পরিচর্যা। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন এখান থেকে ফুল সংগ্রহ করে সহজেই পূজা-পার্বণ সম্পন্ন করতে পারেন, সেই বিষয়টিকেও পরম যত্নে বিবেচনায় রেখেছেন উদ্যোক্তারা। সিমা রানীসহ কলোনির একাধিক নারী ও শিশু নিয়মিত নিজ দায়িত্বে গাছের গোড়ায় পানি দেন এবং ডালপালা ছেঁটে পরিচ্ছন্ন রাখেন। একসময়ে অবজ্ঞার চোখে দেখা এই জনপদের অধিবাসীরা এখন নিজেদের বাসস্থানের চারপাশটাই শুধু পাল্টে দেননি, বরং পুরো এলাকার বাতাস ও পরিবেশকে করে তুলেছেন সতেজ ও প্রাণবন্ত।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন জানান, বাঁশবাড়ি কলোনির এই অভাবনীয় সাফল্য ও সবুজায়নের চমৎকার ছবি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর কাছে প্রেরণ করেন। এই সফল মডেলের আলোকে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নগরের অন্যান্য কলোনি ও অভ্যন্তরীণ সড়কেও ফুলের টব স্থাপন এবং সবুজায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সিটি করপোরেশন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সরেজমিন পরিদর্শনের সময় জানান, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত ছবি দেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কলোনির উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এলাকাটি ঘুরে দেখেছেন। মানুষ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের বসবাসের জায়গাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করে তুলতে সচেষ্ট হয়, তবে দেশের অন্য জনপদগুলোকেও এর আদলে গড়ে তোলা সম্ভব। স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই ফলজ, বনজ ও শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগানোর ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাঁশবাড়ির এই অনুকরণীয় উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে সামগ্রিক পরিবেশের মান বহুগুণ উন্নত হবে।
