মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৯ অক্টোবর)। ১৯৭৪ সালের এই দিনে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এই কবি।
১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফররুখ আহমদ। বাংলা কবিতায় ইসলামী ভাবধারার পাশাপাশি আধুনিক কাব্যরীতি, স্বতন্ত্র শব্দচয়ন ও ব্যতিক্রমী প্রকাশভঙ্গির জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।
ফররুখ আহমদের কবিতায় তৎকালীন মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের আকাঙ্ক্ষা, শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানবতা ও সাম্যের কথা উঠে এসেছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাঁর লেখনী ছিল সোচ্চার। স্বাধীনচেতা ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন এই কবির সাহিত্যকর্মে রোমান্টিকতা ও আধুনিকতার স্বতন্ত্র সমন্বয় দেখা যায়।
শিক্ষাজীবনে ১৯৩৭ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৩৯ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন তিনি। পরে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনার জন্য ভর্তি হলেও পরীক্ষা না দিয়েই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
১৯৪৫ সালে মাসিক ‘মোহাম্মাদী’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফররুখ আহমদ। পাশাপাশি তিনি ঢাকা বেতারে চাকরি করতেন। ১৯৪২ সালের নভেম্বরে খালাতো বোন সৈয়দা তৈয়বা খাতুন লিলির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
কবিতা ছাড়াও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখলেও কবি হিসেবেই তাঁর পরিচিতি সবচেয়ে বেশি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘সাত সাগরের মাঝি’ (১৯৪৪), ‘সিরাজাম মুনিরা’ (১৯৫২), ‘নৌফেল ও হাতেম’ (১৯৬১) এবং ‘হাতেমতায়ী’ (১৯৬৬)। শিশুদের জন্যও তিনি রচনা করেছেন ‘পাখির বাসা’ (১৯৬৫), ‘হরফের ছড়া’ (১৯৭০) ও ‘ছড়ার আসর’ (১৯৭০)সহ বেশ কিছু বই।
সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফররুখ আহমদ ১৯৬০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬১ সালে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’, ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার ও ইউনেসকো পুরস্কার লাভ করেন। মৃত্যুর পর ১৯৭৭ সালে তাঁকে একুশে পদক এবং ১৯৮০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
