রাজধানীর কাঁচামালের বাজারে শীতকালীন সবজি শিম, ফুলকপি, মুলা উঠেছে। শীতের সবজি আগমনে কমেছে কিছু সবজির দাম। বর্তমানে বাজারের সবচেয়ে সস্তা সবজি লাউ ও পেঁপে। আর দামি সবজির তালিকায় রয়েছে- টমেটো, শিম ও ফুলকপি।
রাজধানীর কাঁচামালের বাজারে শীতকালীন সবজি শিম, ফুলকপি, মুলা উঠেছে। শীতের সবজি আগমনে কমেছে কিছু সবজির দাম। বর্তমানে বাজারের সবচেয়ে সস্তা সবজি লাউ ও পেঁপে। আর দামি সবজির তালিকায় রয়েছে- টমেটো, শিম ও ফুলকপি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর রায়ের বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার, যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারে এই চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের কেজি ৮০ টাকা। শীতের আগাম জাতের মুলা ও ঢ্যাঁড়সের দামও কেজিপ্রতি ৭০ টাকা। তবে আগাম শিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিতে ১২০ টাকা। আর প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। বর্তমানে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। এদিকে সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। সবজি ক্রেতা সৌরভ আহমেদ বলেন, বাজারের সস্তা সবজি হচ্ছে লাউ, পেঁপে। দামি সবজি টমেটো ও শিম। শীতকালীন সবজি বাজারে আসায় কিছুটা দাম কমেছে।
দেখা যায়, মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দাম এখনো অপরবির্তত আছে। প্রতি ডজন ব্রাউন ডিম ১৫০ টাকা ও সাদা ১৪০ টাকা। মোহাম্মদপুর টাউন হলের এক দোকানের মালিক বলেন, মুরগীর ডিম প্রতিদিনই উঠানামা করে। আজকে ব্রাউন ডিম ডজন ১৫০ টাকা আর সাদা ডিম ১৪০ টাকা বিক্রি করছি। গত সপ্তাহেও ১৫০ টাকা ডজন বিক্রি করেছি।
এদিকে গরুর গোশতের দাম আগের মতোই আছে। ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়। ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মুরগির দাম ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে আছে। ১০ টাকা কমে আবার অন্য সপ্তাহে ১০ টাকা বাড়ে। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ২০০ টাকা আশপাশে দাম থাকে। আর সোনালি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে থাকে। আজকে ৩১০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া ২৫০-২৬০, পাঙাশ ২০০-২২০, কাতল ৩৫০-৮০০ এবং চিংড়ি ৮০০-১,১০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং সইল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে।
এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ ও জীবিত ও মৃতের ওপর দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি কমবেশি হতে পারে। মাছ বিক্রেতা মোস্তাকিন বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। শুক্রবার সকালের দিকে একটু দাম বেশি থাকে। বিকেলে আবার দাম কমে যাবে। আর মাছের দাম সব সময় চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। আবার জীবিত ও মৃতের ওপরও দাম ওঠানামা করে।
যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারে তেলাপিয়া মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কাতলা ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজি ওজনের রুই ও কাতলা মাছ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও স্থানীয় বাজারে দাম ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা। দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের পাঙাশ পাইকারিতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং স্থানীয় বাজারে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, মুদিপণ্যের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ২৩০ টাকা, ছোট মসুর ডাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, ছোলা ১০৫ টাকা এবং চিনি ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৫ টাকা। বাজার করতে আাস মামুনুর রশীদ বলেন, সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নাগালের মধ্যে আনা। আমরা চাকরি করে বউ-বাচ্চা নিয়ে শহরে জীবন কাটাই। আমাদের প্রত্যাশা একটাই, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো।
