আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করার জন্য নতুন তিনটি জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তার মধ্যে অন্যতম রামলীলা ময়দান। বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের জন্য উপযুক্ত জায়গা হলেও এখানে কর্মসূচি করতে হলে গুনতে হবে মোটা টাকা।
এক দিনের জন্য ১২ একর আয়তনের এই ময়দান বুক করতে প্রাথমিকভাবে খরচ পড়বে ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। তারপরেও এখানে বুকিংয়ের ডেট পাওয়া খুবই মুশকিল।
প্রায়ই রামলীলা ময়দানে কিছু না কিছু লেগে থাকে। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এবার থেকে যন্তরমন্তরে আর প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যাবে না। তার পরিবর্তে উত্তর দিল্লির বুরারি গ্রাউন্ড, পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড এবং রামলীলা ময়দানকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
সরকারি আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক দিনের জন্য রামলীলা ময়দান বুক করতে ভাড়া দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি সিকিউরিটি মানি হিসেবে জমা রাখতে হবে ৫৫ হাজার টাকা, যা কিনা ফেরতযোগ্য।
বর্তমানে দিল্লি পুরনিগমের উদ্যান বিভাগ এই ময়দান বুকিংয়ের দায়িত্বে। অনুমতি পেতে হলে প্রথমে দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে।
সেই তারিখে যদি ময়দান ফাঁকা থাকে তাহলেই বুকিং করা যাবে রামলীলা ময়দান। তবে ময়দানের একটি ছোট অংশ বিনামূল্যে বিক্ষোভ ও জমায়েতের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন পুরনিগমের আধিকারিকরা।
যদিও সেখানে একসঙ্গে ১৫০ জনের মতো মানুষের জমায়েত সম্ভব। পুরনিগমের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও উৎসবের জন্য ইতিমধ্যেই রামলীলা ময়দান বুক করা রয়েছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহে দশেরা ও দীপাবলির মতো বড় উৎসব থাকায় ফাঁকা পাওয়া যাবে না মাঠ। জানা গিয়েছে, চলতি বছরে রামলীলা ময়দান ফাঁকা রয়েছে মাত্র তিনটি দিন ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর।
তার ওপর এখানে জমায়েত হলে ব্যাপক যানজটের আশঙ্কা থাকে। পার্শ্ববর্তী আসফ আলি রোডকে একমুখী করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, দেশবন্ধু গুপ্ত রোডমুখী যানবাহনকে সমান্তরাল জওহরলাল নেহরু মার্গ দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, রামলীলা ময়দানের ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত রামলীলা ময়দান একটি পুকুর ছিল। পরে তা ভরাট করে ১৯৩২ সাল থেকে এখানে পালন করা হয় রামলীলা।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=43ndm4yXsNrwpJaQ
১৯৫২ সালে জম্মু ও কাশ্মীরকে সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করার দাবিতে এই ময়দানেই সত্যাগ্রহ শুরু করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি। আবার, ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০২০ সালে এখানেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
