সিলেট ভয়েস ডেস্ক · ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:৪১ অপরাহ্ন
চতুর্থ ইনিংসে আফগানিস্তানের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে আবুধাবি টেস্টে জয় পাওয়া হলো না বাংলাদেশের। ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৪৬ রান করে আফগানিস্তান। ফলে ড্র হয় ম্যাচটি। ম্যাচ ড্র হওয়ার পর আফগান ক্রিকেটারদের উদ্যাপনে ছিল জয়ের আনন্দ। অন্যদিকে হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে।
আফগানিস্তানের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন সেদিকুল্লাহ অটল। ৩৩২ বল খেলে ১১১ রান করেন তিনি। তার ধৈর্যশীল ইনিংসই বাংলাদেশের জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শুধু অটল নন, রহমত শাহ থেকে শুরু করে আফগানিস্তানের অন্য ব্যাটসম্যানেরাও উইকেটে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যান। ইসমত আলমের ৬০ বলে ৪ রানের ইনিংসও সেই প্রতিরোধের চিত্র তুলে ধরে।
সেঞ্চুরি করা অটলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে প্যাডে আঘাত করে বলটি শর্ট লেগে থাকা ফিল্ডারের হাতে জমা পড়ে। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সাজঘরে ফেরেন অটল। তাঁর বিদায়ে বাংলাদেশের জয়ের আশা কিছুটা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানকে অলআউট করা সম্ভব হয়নি।
অটল আউট হওয়ার পর ৮৫ বলে ১৯ রান করা ইয়ামিন আহমদজাইকেও ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে বাকি দুই উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৩৪৬ রান তোলে আফগানিস্তান।
জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য সামনে নিয়ে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নামে আফগানিস্তান। এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিততে হলে প্রায় রেকর্ড গড়তে হতো দলটিকে। তবে জয়ের চেয়ে টেস্ট বাঁচানোতেই বেশি মনোযোগী ছিল আফগান ব্যাটসম্যানেরা।
চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। সেদিকুল্লাহ অটল ৩৫ এবং হাসমতউল্লাহ শহিদি ১৯ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন। পঞ্চম ও শেষ দিনে অটলের ব্যাটিংয়ে ড্রয়ের আশা জোরালো হয় আফগানদের। ১৬৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর ২৭৭ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি।
দিনের তৃতীয় ওভারেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় শহিদিকে। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এক রান নিতে গিয়ে সিলি মিড অন থেকে ছোড়া বল তাঁর প্যাডে আঘাত করে। প্রচণ্ড ব্যথায় মাটিতে পড়ে যান তিনি। পরে চিকিৎসক ও ফিজিওর শুশ্রূষা নেওয়ার পর প্যাড খুলে মাঠ ছাড়েন শহিদি। তখন তাঁর রান ছিল ২০।
এরপর অটলের সঙ্গে জুটি গড়েন ইকরাম আলিখিল। দুজন মিলে ৪৬ রান যোগ করেন। দলীয় ২০২ রানের মাথায় ইকরামকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন এবাদত হোসেন। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল উইকেটরক্ষক লিটন দাসের। এবাদতের কোমরসমান শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে গ্লাভসে বল লাগান ইকরাম। লিটন ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচটি নেন। ৬৯ বলে ৩৩ রান করে ফেরেন ইকরাম।
এরপর অটল সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেও অন্য প্রান্তে উইকেট হারাতে থাকে আফগানিস্তান। ৬০ বল খেলে ৪ রান করা ইসমত আলমকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। পরে চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা শহিদিকেও ফিরিয়ে দেন তিনি। মিডঅনে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৬৯ বলে ৩৬ রান করে আউট হন শহিদি।
অটল ও ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বিদায়ের পরও আফগানিস্তানের শেষ দুই উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে। এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি করে উইকেট নেন।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
