পুজো মিটতে না মিটতেই দুঃসংবাদ! বিসর্জনের পর গঙ্গা থেকে দুর্গা প্রতিমার কাঠামো তুলতে গিয়ে হুগলিতে মৃত্যু হল প্রৌঢ়ের। তিনি আবার স্থানীয় বিজেপির শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ ছিলেন। ফলে জেলার রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। জানা গিয়েছে, বুধবার বিসর্জন হয়ে যাওয়ার পর রাতের দিকে গৌরী সাহানি নামে ওই ব্যক্তি ভদ্রেশ্বরের শ্রীমানি ঘাটের কাছে গঙ্গায় নেমেছিলেন কাঠামোগুলি কুড়োতে। তারপর আর উঠতে পারেননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে পড়ায় তাঁরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু বাঁচানো যায়নি ৬১ বছরের ওই বিজেপি নেতাকে।
দশমীর দিন অর্থাৎ বুধবার ভদ্রেশ্বরের শ্রীমানি ঘাটে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন চলছিল। তা হয়ে যাওয়ার পর রাতের দিকে বিসর্জনের ঘাট থেকে প্রায় একশো মিটার দূরে গঙ্গার জল থেকে দুর্গা প্রতিমার কাঠামো তুলতে যান গৌরী সাহানি। প্রতিমার কাঠামো তুলে বিক্রি করতেন তিনি। আর সেই কাজ করতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। গঙ্গায় তখন ভাঁটা চলছিল। সেই সময় নদীর পলিতে আটকে পড়েন বছর একষট্টির ওই ব্যক্তি। কিছুক্ষণ ধরে তিনি সেখান থেকে বেরনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পারেননি। অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনাটি নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। বেশ কয়েকজন মিলে তাঁকে নদী থেকে তুলে দ্রুত চন্দননগর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত গৌরী সাহানি ভদ্রেশ্বরের বিজেপির শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপির আরেক নেতা মদন প্রসাদ সাউ জানান, গৌরী সাহানি শ্রীমানী ঘাটের কাছেই বসবাস করতেন। ভদ্রেশ্বর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিমার কাঠামো তুলে তা বিক্রি করতেন। বুধবার সেই কাজ করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। মদন প্রসাদ সাউয়ের কথায়, ‘‘গৌরী সাহানি এমনিতেই অসুস্থ ছিলেন। তা সত্ত্বেও প্রতিমার কাঠামো তুলতে গিয়েছিলেন তিনি। আর সেই কাজ করতে গিয়েই এই মর্মান্তিক পরিণতি।” অন্যদিকে, বিজেপির হুগলি জেলা ভাইস প্রেসিডেন্ট গোপাল উপাধ্যায় বলেন, ‘‘উনি দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী ছিলেন। তাঁর এভাবে মৃত্যুতে দলের কর্মী-সমর্থকেরা গভীরভাবে শোকাহত।”
