চট্টগ্রামে ফ্রাইপ্যান-গ্রেটারে স্বর্ণ, ঢাকায় মলদ্বারে স্বর্ণপেস্ট; জব্দ প্রায় ৫ কোটি টাকার
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
চট্টগ্রাম ও ঢাকার দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও স্বর্ণপেস্ট জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। চট্টগ্রামে ফ্রাইপ্যান ও সবজি কাটার গ্রেটারের ভেতরে লুকানো ৪৬৬ গ্রাম স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই যাত্রীর মলদ্বারে লুকানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম ওজনের ছয়টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সকাল ৭টার দিকে আবুধাবি থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-৩৫০ ফ্লাইটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন এক যাত্রী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
ওই যাত্রী ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার বহনের ঘোষণা দিলেও অতিরিক্ত স্বর্ণ থাকার কথা অস্বীকার করেন। পরে অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে তাঁর ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ফ্রাইপ্যান ও সবজি কাটার গ্রেটারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো চারটি খণ্ডিত স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। এসব স্বর্ণবারের ওজন ৪৬৬ গ্রাম।
ঘোষণা দেওয়া ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ৫৬৬ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়। শুল্ক-করসহ জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৯৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে মালদ্বীপ থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-৩৩৮ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন দুই যাত্রী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁদের দেহ তল্লাশি করে মলদ্বারে লুকানো অবস্থায় প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনটি করে মোট ছয়টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা এসব বস্তুর প্রাথমিক ওজন ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম। কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যমতে, এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা।
তবে উদ্ধার করা স্বর্ণপেস্টের বস্তুগুলোতে প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। আলামতের যথাযথতা সংরক্ষণে সেগুলো অবিকৃত রাখা হয়েছে। পরীক্ষার পর এসব বস্তুতে বিশুদ্ধ স্বর্ণের পরিমাণ ও প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি এবং ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী তল্লাশির মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
