এলাকায় ‘আধিপত্য’ নিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানার ঠ্যাঙাপাড়া গ্রাম। মারামারিতে জখম হয়েছেন অন্তত ছ’জন। চার জনের আঘাত গুরুতর। তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছে। নতুন করে যাতে অশান্তি না হয়, সে জন্য এলাকায় টহলদারি শুরু করেছে পুলিশ।
ঠ্যাঙাপাড়া মঙ্গলকোটের ঝিলু-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি গ্রাম। স্থানীয় সূত্রে খবর, গ্রামের বাসিন্দা লিটন শেখ এবং হাবলু শেখের দুটো গোষ্ঠীর রয়েছে। তাদের সঙ্গে জনৈক মোজাম খানের গোষ্ঠীর বিবাদকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষ বাধে। শনিবার সকালে গ্রামের মোড়ে কালভার্টে বসেছিলেন মোজাম-সহ কয়েক জন। সেই সময় বাইকে চেপে যাচ্ছিলেন লিটন, হাবলুরা। তখন তাঁরা মোজামদের হুমকি দিয়ে যান বলে অভিযোগ। ওই রাস্তা ধরে ফেরার পথে মোজামের গোষ্ঠী লিটনদের আটকায়। শুরু হয় বচসা এবং কিছু ক্ষণের মধ্যে হাতাহাতি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, লিটন, হাবলু, বচন শেখ-সহ বেশ কয়েক জন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করেছেন। অন্য দিকে, সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁদের পরিবারের মহিলারাও বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। গোটা গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কোনও রকমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশের তৎপরতায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার বন্দোবস্ত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গন্ডগোলের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্য দিকে, স্থানীয়দের দাবি, বিবাদমান দুই গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সেই ‘সুবাদে’ দুই শিবিরই এলাকায় ‘দাদাগিরি’ করে। লিটন, হাবলুরা আগে তৃণমূলে ছিলেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁরা বিজেপিতে ভিড়েছেন। অন্য দিকে, মোজাম আগে থেকেই বিজেপির সঙ্গে আছেন। প্রতিবেশীরা বলছেন, বিজেপি করার জন্য ২০১৬ সালে মোজামকে গ্রামছাড়া হতে হয়েছিল। ২০২১ সালে মুচলেকা দিয়ে তাঁকে গ্রামে ফিরতে হয়েছে। যেই গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ, তারা এখন ‘বিজেপির কাছের’ বলে দাবি করছে। এখান থেকেই গন্ডগোলের শুরু। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এ নিয়ে বিশেষ কোনও তথ্য দিচ্ছেন না।
শনিবারের রক্তক্ষয়ী অশান্তির পর বিজেপির মঙ্গলকোট ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি মন্দিরা চট্টরাজ বলেন, “ঠ্যাঙাপাড়া গ্রামে যাঁরা ঝামেলা করেছেন, তাঁরা কেউ বিজেপির সঙ্গে ছিলেন না। ভোটের ফল ঘোষণার পর এঁরা বিজেপি সেজেছেন। যাঁরা ঝামেলা করছে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। আইন আইনের পথে চলবে।”
পরিস্থিতি যাতে নতুন করে উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, সে জন্য পুলিশ নজরদারি চলছে এলাকায়। তবে এখনও পর্যন্ত কারও আটক বা গ্রেফতারির খবর মেলেনি।
