আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত মঙ্গলবার ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাফল্যের জন্য তাঁর সংগঠনের শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তিকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হিন্দু ধর্মকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং তাকে শক্ত ভিতের উপর টিকিয়ে রাখতে আরএসএস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
মহারাষ্ট্রের নাগপুরের রেশিমবাগ ময়দানে আরএসএস-এর বিজয়াদশমী উৎসবে ভাষণ দেওয়ার সময় ভাগবত বলেন, সংগঠনের দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক প্রচেষ্টা হিন্দু ধর্মকে রক্ষা করতে সাহায্য করেছে। তাঁর দাবি, বিশেষ করে ইসলামি আগ্রাসনের পরবর্তী সময়ে এই কাজ কঠিন হলেও তাতে সফল সংঘ।
মোহন ভাগবত বলেন, "বিজেপির সাফল্যের পেছনে আরএসএস-এর শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তির বড় অবদান রয়েছে। হিন্দু ধর্মকে জীবিত ও শক্তিশালী রাখার ক্ষেত্রেও সংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই নিরন্তর সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক প্রচেষ্টা না থাকলে, বিশেষ করে ইসলামি আগ্রাসনের পরবর্তী সময়ে, হিন্দু ধর্ম হয়তো আরও বড় ধরনের ক্ষয় বা বিলুপ্তির মুখে পড়তে পারত।"
আরএসএস প্রধান জানান, গত এক বছর ধরে সংগঠনের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল এবং বিজয়াদশমীর এই সমাবেশটি সেই ধারাবাহিক কর্মসূচির সমাপ্তি নির্দেশ করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বছরটি সন্ত রবিদাস জি মহারাজের ৬৫০তম জন্মবার্ষিকীও বটে। সন্ত রবিদাস যে পরিস্থিতিতে তাঁর শিক্ষা প্রচার করেছিলেন, তার কথা স্মরণ করে ভাগবত জানান, সেই সময়ে ভারত বিদেশি আক্রমণকারীদের অত্যাচারে জর্জরিত ছিল এবং যারা নিজেদের ধর্ম পালন করতেন, তাঁদের মধ্যে এক ভীতিজনক পরিবেশ বিরাজ করছিল।
ভাগবত বলেন, "এমন এক সময়ে যখন ভারত অত্যাচারী বিদেশি আক্রমণকারীদের কবলে পড়ে ধুঁকছিল এবং যারা নিজেদের ধর্ম পালন করতেন তাঁরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছিলেন, তখন সারা দেশে এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এই কঠিন সময়ে সন্ত রবিদাস জি নির্ভয়ে নিজ ধর্মের প্রতি নিষ্ঠা, সামাজিক সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক ভক্তির বার্তা প্রচার করেছিলেন। নিজের জীবনের দৃষ্টান্ত দিয়ে তিনি তৎকালীন মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সাহস সঞ্চার করেছিলেন, তাঁদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন যেন তাঁরা নিজেদের মূল্যবোধে অটল থাকেন এবং নিজেদের মর্যাদা রক্ষা করেন।"
এছাড়াও মোহন ভাগবত স্বামী লক্ষ্মণানন্দ সরস্বতী মহারাজের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, স্বামী লক্ষ্মণানন্দ ওড়িশার বনবাসী (উপজাতি) সম্প্রদায়ের সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি বলেন, “স্বামী লক্ষ্মণানন্দ সরস্বতী মহারাজের জন্মশতবার্ষিকী বর্তমানে উদযাপিত হচ্ছে। তিনি ওড়িশার বনবাসী সম্প্রদায়ের সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং তাদের মধ্যে নিজেদের ধর্ম রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা জাগিয়ে তোলার প্রক্রিয়ায় নিজের প্রাণ বলি দিয়েছিলেন।”
