Published on
:
2 min read
আজ ১৬ অক্টোবর ২০২৬ পালিত হচ্ছে দুর্গাষষ্ঠী। মহালয়া থেকেই উত্সবের আবহ শুরু হলেও খাতায় কলমে মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় দুর্গা আরাধনা। কিন্তু কেন পুজো শুরুর আগে দেবীর বোধন করা জরুরি?
Highlights
দুর্গাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মাধ্যমে শুরু হয় দুর্গাপুজোর মূল আচার।
বোধন কথার অর্থ দেবী দুর্গার ঘুম ভাঙানো বা তাঁকে জাগ্রত করা।
পুরাণ অনুসারে, সূর্যের দক্ষিণায়ন দেবতাদের রাত, তাই এই সময়ে দেবীর অকাল বোধন করা হয়।
রাবণ বধের আগে সীতাকে উদ্ধার করতে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ চেয়েছিলেন রামচন্দ্র।
কালিকাপুরাণ অনুসারে, রামকে সাহায্য করতে ব্রহ্মা রাত্রিকালে দেবীর বোধন করেছিলেন।
ষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের পর অধিবাস ও আমন্ত্রণের আচার পালন করা হয়।
বোধনের অর্থ দেবীর ঘুম ভাঙানো। অর্থাত্ এর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে শরত্কালের এই সময়টিই শাস্ত্র অনুসারে দেবীর নিদ্রাকাল। তাই আগে ঘুম ভাঙিয়ে তারপর তাঁর আরাধনা করা হয়।
সূর্যের দক্ষিণায়ন দেবতাদের রাত
পুরাণ অনুসারে পৃথিবীর এক বছর হচ্ছে স্বর্গের এক দিনের সমান। সূর্যের উত্তরায়ন হলো দেবতাদের দিন, আর দক্ষিণায়ন হলো দেবতাদের রাত। বিষুবরেখা থেকে সূর্য যখন ক্রমশ উত্তরে গমন করে তখন সেটি হলো সূর্যের উত্তরায়ন। ছয় মাস ধরে চলে সূর্যের উত্তরায়ন ও ছয় মাস চলে দক্ষিণায়ন। বিষুবরেখা থেকে সূর্য যখন ক্রমশ দক্ষিণ দিকে গমন করে তখন হয় সূর্যের দক্ষিণায়ন। দিনের বেলা অর্থাত্ সূর্যের উত্তরায়নের সময় জেগে থাকেন দেবতারা। তাই এই সময়েই দেবতাদের পুজো করার বিধান আছে শাস্ত্রে। অন্যদিকে সূর্যের দক্ষিণায়ন হল দেবতাদের রাত। এই সময় দেবতারা ঘুমিয়ে থাকেন। সূর্যের এই গমনকালের ব্যপ্তিও ছয় মাস। সেই কারণেই দক্ষিণায়নের সময় পুজো করার বিধান নেই শাস্ত্রে।
অকাল বোধন
শরৎকালে চলে সূর্যের দক্ষিণায়ণ। শাস্ত্র অনুসারে এই দেবতাদের রাত, তাই তাঁরা ঘুমিয়ে থাকেন। এই কারণে শরৎকাল দেবীর আরাধনার জন্য় উপযুক্ত সময় নয়। তাই এই অকালে তাঁর পুজো করতে হলে তাঁকে জাগরিত করতে হয়। জাগরনের এই প্রক্রিয়াটিই বোধন নামে পরিচিত। সেই কারণে দুর্গাপুজো শুরু হয় দেবীর অকাল বোধন দিয়ে। অর্থাত্ অকালে বা নির্দিষ্ট সময়ের আগে তাঁর ঘুম ভাঙানো হচ্ছে।
রামের দুর্গা আরাধনা
রাবণ বধ করে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ লাভ করতে এই অসময়েই তাঁর পুজো করেছিলেন রামচন্দ্র। তাই শরত্কালের দুর্গাপুজোকে দেবীর অকাল বোধন বলা হয়। কালিকাপুরাণ অনুসারে, রাবণ বধ করার জন্য রামচন্দ্রকে সাহায্য করতে রাত্রিকালে দেবীর বোধন করেছিলেন ব্রহ্মা। নিদ্রিত দেবীর ঘুম ভাঙানোর জন্য স্বয়ং ব্রহ্মাকে দেবীস্তুতি করতে হয়৷ ‘হে দেবী রাবণবধের জন্য রামকে অনুগ্রহ করুন ও জাগ্রতা হোন৷’ ব্রহ্মার এই আবেদনে দেবী বেল গাছের একটি পাতায় কুমারী কন্যার রূপে আবির্ভূতা হন৷ দেবীর সেই আবির্ভাবকে স্মরণ করে আজও তাঁর পুজোর প্রাক্কালে তাঁকে জাগ্রত করতে বেল গাছে তাঁকে উদবোধিত করার যে অনুষ্ঠান তাই বোধন৷ ষষ্ঠীতে প্রথমে দেবীর বোধন, পরে অধিবাস ও আমন্ত্রণ করা হয়৷
FAQ
প্রশ্ন: দুর্গাপুজোয় দেবীর বোধন কেন করা হয়?
উত্তর: শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুসারে, শরৎকালে সূর্যের দক্ষিণায়ন চলে, যা দেবতাদের রাত হিসেবে পরিচিত। তাই দুর্গাপুজোর আগে দেবীকে জাগ্রত করার জন্য বোধন করা হয়।
প্রশ্ন: বোধন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বোধন শব্দের অর্থ ঘুম ভাঙানো বা জাগ্রত করা। দুর্গাপুজোয় দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙানোর আচারকেই বোধন বলা হয়।
প্রশ্ন: দুর্গাপুজোকে অকাল বোধন বলা হয় কেন?
উত্তর: প্রচলিত পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, শরৎকাল দেবতাদের নিদ্রার সময়। এই সময়ে দেবীর আরাধনার জন্য তাঁকে জাগ্রত করা হয় বলে দুর্গাপুজোকে অকাল বোধন বলা হয়।
প্রশ্ন: রামচন্দ্র কেন দেবী দুর্গার অকাল বোধন করেছিলেন?
উত্তর: রাবণ বধ করে সীতাকে উদ্ধার করার আগে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ লাভের জন্য রামচন্দ্র শরৎকালে তাঁর আরাধনা করেছিলেন বলে প্রচলিত কাহিনিতে উল্লেখ রয়েছে।
প্রশ্ন: দুর্গাপুজোয় বোধন কখন করা হয়?
উত্তর: দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন করা হয়। এরপর অধিবাস ও আমন্ত্রণের মতো ধর্মীয় আচার পালন করা হয়।
