Published on
:
2 min read
অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত সিয়াং বাঁধ প্রকল্পের বিরোধিতায় আন্দোলন ঘিরে হিংসা ছড়াল। শুক্রবার রাতে পাসিঘাটে বিক্ষোভকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে NHPC-র অফিস ও একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন লাগানো, দুই বিধায়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতির বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পাথর ছোড়ার ঘটনায় ৪০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক ডেপুটি পুলিশ সুপারের মাথায় আঘাত লেগেছে। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডিব্রুগড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংঘর্ষে এক বিক্ষোভকারীও আহত হয়েছেন।
প্রস্তাবিত ১১,২০০ মেগাওয়াটের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্টের (SUMP) বিরুদ্ধে ১২ ঘণ্টার বন্ধ ডেকেছিল কয়েকটি সংগঠন। শুক্রবার বিকেল ৫টায় বন্ধ শেষ হওয়ার পরেও উত্তেজনা ছড়ায়। শনিবার ভোরের দিকে বিক্ষোভকারীরা এলাকা ছেড়ে চলে যান। অন্তত ন’টি পুলিশের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কী বলছে পুলিশ?
পাসিঘাটের সেন্ট্রাল রেঞ্জের আইজি হিবু তামাং বলেছেন, ‘৪০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী পাথর ছোড়ার ঘটনায় আহত হয়েছেন। আমাদের এক ডেপুটি সুপারের মাথায় আঘাত লেগেছে। তাঁকে ডিব্রুগড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্মীরাও গুরুতর আহত হয়েছেন।’
তাঁর দাবি, ‘জেন জ়ি’ নামে পরিচয় দেওয়া একটি যুবগোষ্ঠী মেবো এলাকা থেকে এসে পাসিঘাট-বোলেং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা তাদের রাস্তা ছাড়তে অনুরোধ করলেও লাভ হয়নি। পরে ২০০–৩০০ জনের কয়েকটি দল পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
তামাং আরও বলেন, ‘আমরা ভিডিয়ো ও ছবি তুলে ঘটনার নথি তৈরি করেছি। কারা হিংসায় জড়িত ছিল বা উস্কানি দিয়েছিল, তা চিহ্নিত করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।’
কেন বাঁধ নিয়ে বিরোধ?
স্থানীয় বাসিন্দা ও আদিবাসী সংগঠনগুলির একাংশের আশঙ্কা, প্রকল্পের কারণে জমি, জীবিকা, পরিবেশ ও স্থানীয় সংস্কৃতির ক্ষতি হতে পারে। আন্দোলনকারীরা প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা বন্ধ করা, গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের মুক্তি এবং এলাকায় মোতায়েন কেন্দ্রীয় ও আধাসামরিক বাহিনী সরানোর দাবি জানিয়েছেন।
অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু হিংসা ও সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আলোচনার জন্য আন্দোলনকারী সংগঠনগুলিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্পের সম্ভাব্য সুবিধা ও ক্ষতি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা উচিত। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও হিংসা ও সম্পত্তি নষ্ট করা গ্রহণযোগ্য নয়।
