ভারতে ছাত্র আন্দোলনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, জবাবদিহি চাইলেন ছয় মার্কিন আইনপ্রণেতা
ভারতে ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, অন্যায়ভাবে আটকের অভিযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর নজরদারির অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের ছয়জন ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা। এসব অভিযোগ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে উত্থাপন করতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দেশটিতে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির যোগ্যতা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক চিঠিতে এ আহ্বান জানান ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা প্রমিলা জয়পাল, ইলহান ওমর, জিম ম্যাকগভার্ন, রাশিদা তলাইব, এলেনর হোমস নর্টন ও জেসাস গার্সিয়া। আগামী সপ্তাহে রুবিওর ভারত সফরকে সামনে রেখে তাঁরা এসব বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং বিক্ষোভকারীদের অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ছবি তুলে তাঁদের ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগও তোলা হয়।
ভারতের খসড়া ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনপ্রণেতারা। তাঁদের চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, এ প্রক্রিয়ার আওতায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটার বাদ পড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা। প্রমিলা জয়পালের বক্তব্যকে তিনি ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে, ডেমোক্রেটিক নেতা ও সাবেক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা অজয় জৈন ভুতোরিয়াও আইনপ্রণেতাদের চিঠির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচিত অন্য দেশকে উপদেশ না দিয়ে নিজের দেশের সমস্যা সমাধান করা।’
রুবিওর আসন্ন ভারত সফরকে কেন্দ্র করে আইনপ্রণেতারা আরও কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে এবং বেআইনিভাবে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ওপর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের হুমকি বা নজরদারি চালাচ্ছে কি না, তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ‘আর্মস এক্সপোর্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট’-এর আওতায় ভারতে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নেরও দাবি তুলেছেন ছয় আইনপ্রণেতা।
