The Sangbad · সাধারণ
‘গত দুই মাসে মাদক সম্পৃক্ততায় ২৭ পুলিশ সদস্য জেলে’
২৫/১০/২০২৬

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে কেউ স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারবেন নাস্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে নাযানবাহন ও জনবল সংকট কাটাতে মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়েছেদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পুলিশকে শক্তিশালী করতে না পারলে সাধারণ মানুষ কেউই দিন-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারবেন না। তবে জনগণের সার্বিক ও আন্তরিক সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুখী, সমৃদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।রবিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ ও এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো অবস্থাতেই আপস করা যাবে না। যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করতে চায়, তাদের সঙ্গে আঁতাতকারীরা কখনোই দেশপ্রেমিক হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানের কথা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, পুলিশ বাহিনীর ভেতরে মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বাহিনীকে কার্যকরভাবে শক্তিশালী করতে হলে সবার আগে নিজেদের ঘর পরিষ্কার করতে হবে।তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে কাউকে কক্সবাজারে পাঠানো হলে তিনি নিজেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন না। তবে ভালো কাজ করলে চাকরি হারানোর কোনো ভয় থাকার কথা নয় উল্লেখ করে তিনি নিজেই এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করতে বিভিন্ন যুগান্তকারী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। পুলিশের যানবাহনের বর্তমান চাহিদার তুলনায় প্রায় আড়াই হাজার গাড়ির ঘাটতি রয়েছে এবং আট থেকে বিশ বছরের পুরোনো গাড়ির সংখ্যাও কম নয়। এই সংকট স্থায়ীভাবে দূর করতে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ নতুন গাড়ি কেনার একটি বৃহৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং গত সপ্তাহেই তা অনুমোদিত হয়েছে। এর পাশাপাশি জনবলের ঘাটতি পূরণে প্রতি বছর ন্যূনতম ১৫ হাজার নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা হবে বলে তিনি জানান।কিশোর গ্যাং ও অপরাধ দমনের বিষয়ে আইজিপি বলেন, কিশোর গ্যাং নির্মূলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নিয়ে ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে।স্থানীয় মানুষের কাছে অপরাধের তথ্য অনেক সময় পুলিশের চেয়েও বেশি থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউনিয়নের কোন পাড়ায় কে মাদক সেবন করে বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত তা স্থানীয়রা ভালো জানেন। তাই পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিভিন্ন গুজব ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আইজিপি বলেন, ‘প্রতিটা জায়গায় ষড়যন্ত্র। আমি বুঝি, আমার বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী এসেই বলেছেন, প্ল্যান। এটার ভিতরে আপনারা ষড়যন্ত্র খুঁজেন কেন? তিনি কোন কাজটা খারাপ করছে?’দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক শূন্য, সবকিছু শূন্য। তারপরে আবার বলেন, তারাই ফেরেশতা। আর এখন যারা আমরা আছি, আমরা সব খারাপ লোক।’বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিসেস পারভীন আক্তার এবং বাগেরহাট প্রেসক্লাব সভাপতি আবু সাইদ শুনুসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗