চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অটোরিকশাচালক আব্দুল নুর তুষার হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির বিভিন্ন অংশ।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মো. আব্দুল নুর তুষার (২২) হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যোগীরহাট-খন্দকিয়া বাজার সড়কের পাশে একটি বিলের পানিতে তুষারের গলায় রশি ও গামছা প্যাঁচানো লাশ পাওয়া যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে তাঁর অটোরিকশাটি ছিল না। এ ঘটনায় হাটহাজারী থানায় মামলা হয়।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. সিরাজুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজের দিকনির্দেশনায় মামলার তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুষার ও অভিযুক্তদের চলাচলের পথ শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুলগাঁও এলাকার সাদ-মুছা গার্মেন্টস কারখানার সামনে থেকে তুষারের অটোরিকশাটি ভাড়া নেয় অভিযুক্তরা। পরে তাঁকে নিয়ে হাটহাজারীর একটি নির্জন সড়কের পাশে গিয়ে গলায় রশি ও গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ পাশের বিলে ফেলে অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাই করা অটোরিকশাটি যোগীরহাট, আমানবাজার, বড় দীঘির পাড় ও চৌধুরীহাট হয়ে ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাবলু নামের এক ব্যক্তির কাছে অটোরিকশাটি হস্তান্তর করা হয়। পরে সেটি ঠাণ্ডাছড়ির একটি ওয়ার্কশপে রাখা হয়।
হাটহাজারী থানা পুলিশের এসআই আশিকুর রহমান, এসআই তানভীর আহমেদ ও এসআই আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৬ অক্টোবর রাত ১১টা পর্যন্ত চৌধুরীহাট, সন্দ্বীপ কলোনি ও ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইমরান হোসেন আপন (২৩) এবং অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত মো. বাবলু (২৫), মো. আকতার হোসেন (৩৬), মো. মারুফ (২৫), গোলাপ মোস্তফা (৩৫) ও মো. আলাউদ্দিনকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান হোসেন আপন আরেক সহযোগীসহ হত্যাকাণ্ড ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এবং ২৯ সেপ্টেম্বর অটোরিকশাটি ভাড়া নিয়ে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তুষারকে হত্যা করা হয়। পরে অটোরিকশাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে অন্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরাও অটোরিকশা কেনাবেচার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঠাণ্ডাছড়ির একটি ওয়ার্কশপ থেকে অটোরিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর তুষারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমসহ ঠাণ্ডাছড়ি এলাকা থেকে মো. রাসেল (২৫) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
