মা দুর্গার বিদায়ের পর মা লক্ষ¥ীকে ঘরে আনার পালা। আজ রবিবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধন ও ঐশ্বর্য্যরে অধিষ্ঠাত্রী দেবী শ্রী শ্রী লক্ষ্মী পূজা। একে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজাও বলা হয়। বাঙ্গালী হিন্দুদের ঘরে ঘরে এই পূজার আয়োজন করা হয়। শারদ পূর্ণিমা অর্থাৎ আশ্বিন মাসের শেষে পূর্ণিমা তিথিতে বাংলার ঘরে ঘরে বিশেষ আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে মা লক্ষীর পূজা ও আরাধনা করা হয়। পঞ্জিকা মতে, আজ রবিবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে। যা আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে শেষ হবে।
তিথি অনুযায়ী আজ রবিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মা লক্ষ্মীর পূজার আয়োজন করবেন ভক্তরা। এই দিনে দেবী লক্ষ্মীর পায়ে পুস্পাঞ্জলি অর্পণের আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতিটি ঘরে ঘরে আলপনা আঁকার মাধ্যমে মা লক্ষ্মী দেবীকে আহ্বান জানানো হবে। পূজায় ভক্তরা মা লক্ষ্মীর কাছে তাদের আয় উন্নতির জন্যও প্রার্থনা নিবেদন করবেন। শাস্ত্রমতে, দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পদ তথা ঐশ্বর্যের প্রতীক। উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মী।
তাই লক্ষ্মী ঐশ্বর্যের দেবী। লক্ষ্মীর বাহন প্যাঁচা। মা লক্ষ্মী খুব অল্পেতেই সন্তুষ্ট- কিন্তু উপযুক্ত নিয়মাবলী ও কিছু বিধিনিষেধ মেনে দেবীকে আহ্বান জানাতে হয়। রীতি অনুযায়ী, লক্ষ্মীপূজার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো- সিঁদুর, ঘট, ধান, মাটি, আম্রপল্লব, ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, আতপ চাল ও জল। এই দিনে বাঙালি হিন্দু গৃহবধুরা পূজা শেষ না হওয়ার পর্যন্ত উপবাস থাকেন। পূজা শেষে লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ করেন।
রাজধানী থেকে শুরু করে সারাদেশে প্রতিটি হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরের আঙ্গিনায় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপে আল্পনা আঁকা এবং মোমবাতি প্রজ্জ্বলনও করেন তারা। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে রাজধানীর রামসীতা মন্দির, রমনা কালিবাড়ি মন্দির, ঠাঁটারীবাজার পঞ্চানন্দ শিবমন্দির, গৌতম মন্দির, রাধা মাধব বিগ্রহ মন্দির, ৮৪নং বনগ্রাম রোডে রাধা গোবিন্দ জিও ঠাকুর মন্দির, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, সাভারের নগর কোন্ডাস্থ মধ্যপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরসহ সারাদেশের প্রতিটি হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে মা লক্ষ্মী পূজা সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিআলো/অর্নব