ভারতের কেরালার ১৬ বছর বয়সী কিশোর রাউল জন আজু। পড়াশোনা করছেন দ্বাদশ শ্রেণিতে, বাণিজ্য বিভাগে। তবে স্কুলের পাঠ্যবইয়ের বাইরেও তাঁর আগ্রহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, রোবটিকস এবং প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসা নিয়ে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁকে ‘এআই কিড অব ইন্ডিয়া’ নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৯ বছর বয়সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় রাউলের। ইন্টারনেট ও অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করে প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় শেখার চেষ্টা করেন তিনি। এরপর মাত্র ১২ বছর বয়সে স্কুলের বিজ্ঞান প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি করেন ‘মিবট’ (MeBot) নামে একটি হিউম্যানয়েড রোবট। এই প্রকল্পই তাঁর প্রযুক্তি নিয়ে কাজের আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
মিবট তৈরির পর থেমে থাকেননি রাউল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন তিনি। তাঁর তৈরি প্রকল্প ও এআই টুলগুলোর মধ্যে RESQ AI, ZapGap, Investo AI এবং FeedFye-এর নাম সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রযুক্তিকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন এই কিশোর।
রাউলের উদ্যোক্তা-জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তাঁর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এআইরিয়েলম টেক এআইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৫ জন কর্মী রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রযুক্তি নিয়ে কাজের পাশাপাশি এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও যুক্ত রাউল। তাঁর ThinkCraft Academy-এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষকে এআই শেখানোর উদ্যোগের কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশ তাঁর বাবা: রাউলের বাবা আজু জোসেফ প্রযুক্তি খাতে অভিজ্ঞ একজন পেশাজীবী। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি অতীতে Amazon, Adobe, Wipro ও IBM-এর মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এখন কাজ করছেন ছেলের প্রতিষ্ঠানে।
সাধারণত বাবা-মা সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেন, দেন অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ। রাউলের ক্ষেত্রে সেই সম্পর্কের আরেকটি দিক সামনে এসেছে। নিজের প্রতিষ্ঠানে বাবার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। আর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাবাকে প্রতি মাসে দুই লাখ ভারতীয় রুপি বেতন দিচ্ছেন এই কিশোর উদ্যোক্তা।
রাউলের গল্প প্রযুক্তি শেখার পাশাপাশি উদ্যোগ নেওয়া, দল গঠন এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজার গুরুত্বও তুলে ধরে। অল্প বয়সে এআই নিয়ে কাজ শুরু করে তিনি যে পরিচিতি পেয়েছেন, তা তরুণদের প্রযুক্তি শিক্ষায় আগ্রহী হওয়ার অনুপ্রেরণা হতে পারে।
