Published on
:
1 min read
প্রত্যুষ চক্রবর্তী, আউশগ্রাম
জমিদারি প্রথা লুপ্ত হয়েছে আগেই। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সমাজ, জীবনযাত্রা। কিন্তু ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে গুসকরার চোঙদার বাড়ি। বাড়ির দুর্গাদালানে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে বহমান দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য। দেওয়ালে বয়সের ছাপ পড়েছে, বারান্দার পলেস্তারা খসে পড়েছে, তবু পুজো ঘিরে আচার-অনুষ্ঠান, সাবেকিয়ানা ও জাঁকজমকে এতটুকু ভাটা পড়েনি। সেই পারিবারিক ঐতিহ্যকে আগলে রেখেছেন চোঙদার পরিবারের সদস্যরা।
একটা সময়ে চোঙদার পরিবার ব্যবহার করত চট্টোপাধ্যায় পদবি। পরে 'চোঙদার' উপাধি প্রাপ্তি। জমিদারি বিস্তৃত ছিল সাতটি গ্রাম-সহ বীরভূম পর্যন্ত। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে জমিদারবাড়ি তখন যেন মানুষের মিলনমেলা। চারটি দিন গ্রামবাসীদের ঠিকানা জমিদারবাড়ির দুর্গাদালান। মায়ের দর্শন, অন্নভোগ গ্রহণ, পালাগান ও যাত্রাপালা, সব মিলিয়ে উৎসবের ভরা জোয়ার। জমিদারির জৌলুস হারালেও পুজোর ঐতিহ্য অটুট।
চোঙদার বাড়ির দুর্গাদালানের চারদিকে খড়খড়ির জানালা, বড় বড় কারুকাজ করা থাম এবং একচালার সাবেকি প্রতিমা এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ। দালানের পাশে পুরোনো ভোগঘর এবং ভগ্ন ৫২টি উনোনের চিহ্ন। অতীতে সেই উনোনগুলিতেই রান্না হতো। দশমীতে পূর্বপুরুষদের শ্রাদ্ধ, রয়েছে বিশেষ পারিবারিক প্রথা। পরিবারের সদস্য নিলয় চোঙদার জানাচ্ছেন, সেই প্রথার নেপথ্যে রয়েছে করুণ পারিবারিক ইতিহাস।
তিনি বললেন, 'একবার পুজো চলাকালীন দশমীতে পূর্বপুরুষ চতুর্ভুজ চোঙদারের মৃত্যু হয়। পরে তাঁর স্ত্রী বিদ্যাসুন্দরী দেবী দুর্গামন্দিরে স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করেন কথিত রয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকে দশমীর দিন চতুর্ভুজ, বিদ্যাসুন্দরী-সহ পরিবারের অন্য পূর্বজদের উদ্দেশে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়। আজও সেই রীতি চলছে।
পুজোর প্রত্যেকদিনই রয়েছে নির্দিষ্ট আচার-অনুষ্ঠান। নিয়মিত হোম-যজ্ঞের সঙ্গে নবমীতে কুমারী পুজো। মহাষ্টমীতে অঞ্জলি। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত দুর্গাদালানে জ্বলে প্রদীপ।
চোঙদার পরিবারের কাছে এটি নিছক ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, পারিবারিক আবেগ ও মিলনের উৎসব। চার দিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা দুর্গাদালানে সময় কাটান। নিজেদের উদ্যোগে হয় গান, নাটক-সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দুর্গাপুজো ছাড়াও চোঙদার বাড়িতে কালীপুজো ও জগদ্ধাত্রীর পুজোও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়।