সিলেটের বিশ্বনাথে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত মনফর উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত মনফর উদ্দিন বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের মির্জারগাঁও গ্রামের মৃত উমেদ আলীর ছেলে।
নিহতের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মির্জারগাঁও গ্রামের রাজিবুল মিয়া বাদী হয়ে ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩২ জনকে আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ১০।
মামলার এজাহারনামীয় তিন আসামিকে মঙ্গলবার রাতে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মির্জারগাঁও গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে ছাইদুল মিয়া (২৯) ও শাহীন মিয়া (২৭) এবং একই গ্রামের তছির উদ্দিনের ছেলে সালমান আহমদ কাঞ্চন (২৫)। বুধবার দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত নিহতের মরদেহ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জারগাঁও গ্রামের শাহজাহান মিয়া ও খালেদ মিয়ার লোকজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে শাহজাহান মিয়ার পক্ষের মনফর উদ্দিন মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
