দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিজের বিতর্কিত প্রথম ও একমাত্র সংবাদ সম্মেলনের পর পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে নানামুখী সমালোচনার মুখে পড়ে বিদায় নেন তিনি। খবর আল জাজিরার।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, গণমাধ্যম কেটি জাকারিয়ার প্রতি অতিরিক্ত কঠোর মনোভাব দেখিয়েছে। তাই তিনি নিজেই তাকে পদটি নিয়ে ‘পুনর্বিবেচনা’ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর পরপরই কেটি জাকারিয়া পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে নিশ্চিত করে হোয়াইট হাউস।
এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালনকারী হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে রেকর্ড গড়লেন কেটি জাকারিয়া। এর আগে ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যোগাযোগ পরিচালক অ্যান্থনি স্কারামুচ্চি ১০ দিন দায়িত্ব পালন করে পদচ্যুত হয়েছিলেন, যা মার্কিন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একক সময় পরিমাপক হিসেবে ‘ওয়ান স্কারামুচ্চি’ নামে পরিচিতি পায়। এখন কেটির এই পাঁচ দিনের স্থায়িত্ব ‘ওয়ান জাকারিয়া’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে, যা আগের রেকর্ডেরও অর্ধেক।
যে কারণে পদ হারাতে হলো কেটি জাকারিয়াকে
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা না হলেও, কেটির দক্ষতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কই এর মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের প্রথম ও একমাত্র ব্রিফিংয়ে তিনি বেশ অস্বস্তিতে ছিলেন। কথা বলার সময় তোতলামি, নিজের নোটের দিকে অনবরত তাকিয়ে থাকা এবং একটি পর্যায়ে ‘প্রেসিডেন্ট’ শব্দের জায়গায় ভুলবশত ‘হাসব্যান্ড’ (স্বামী) উচ্চারণ করেন তিনি। মাত্র ১৪ মিনিট স্থায়ী সেই ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি ডায়াস ত্যাগ করেন।
এরপর কেটির পেশাগত আইনজীবী পরিচয় নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তিনি নিজেকে ‘আইনজীবী’ হিসেবে দাবি করলেও অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করলেও আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করার প্রয়োজনীয় ‘বার পরীক্ষায়’ কখনোই পাস করেননি। পরে ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাকে।
হোয়াইট হাউসের নতুন কোনো মুখপাত্রের নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, এই পদে নতুন কাউকেও নিয়োগ দিতে তার ‘কোনো তাড়াহুড়ো নেই’।
কেটি জাকারিয়া ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করা ষষ্ঠ হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি। তার পূর্বসূরি ক্যারোলিন লিভিট পারিবারিক কারণে গত আগস্টে পদত্যাগ করেছিলেন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটিই প্রথম কোনো বরখাস্তের ঘটনা নয়। এর আগে গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েল, অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজকে বিভিন্ন কেলেঙ্কারি ও বিতর্কের জের ধরে পদচ্যুত বা অব্যাহতি দেওয়া হয়।
