সুকর্ণ সাহেদ ধীমানের ওয়েব সিরিজ ‘ফেউ’। প্রথম সিজন প্রকাশের পর থেকেই সিরিজটির দ্বিতীয় সিজনের অপেক্ষায় ছিলেন দর্শক। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পরবর্তী অংশ মুক্তি না পাওয়ায় এ নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। এবার চলতি বছরেই দ্বিতীয় সিজন মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা করছে ওটিটি প্লাটফর্ম চরকি। নির্মাতাও এ বছর সিরিজটির পুরোটা প্রকাশের প্রত্যাশা করছেন। তবে মুক্তির তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গত বছরের ৩০ জানুয়ারি চরকিতে মুক্তি পায় সিরিজটির প্রথম সিজন। সে সময় জানা গিয়েছিল, দুই সিজনের শুটিং একটানা শেষ করা হয়েছে। প্রথম সিজন মুক্তির কয়েক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় সিজন প্রকাশের পরিকল্পনাও ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সিরিজটির পরবর্তী অংশ প্রকাশিত হয়নি। কয়েক মাস আগে এ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন সিরিজের অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান।
দ্বিতীয় সিজনের মুক্তি প্রসঙ্গে নির্মাতা সুকর্ণ সাহেদ ধীমান বলেন, ‘আমিও অপেক্ষায় আছি ফেউ সিরিজের বাকি অংশের জন্য। এ বছর আমরা ফেউয়ের পুরোটা মুক্তি দিতে চাই। তবে পুরো পরিকল্পনা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়া হবে।’
এ বিষয়ে চরকি কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছরেই সিরিজটি মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।
১৯৭৯ সালের মরিচঝাঁপি হত্যাকাণ্ডের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত ‘ফেউ’-এর গল্পে উঠে এসেছে দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ডুমুরঝাঁপিতে আশ্রয় নেয়া একদল হিন্দু ধর্মাবলম্বী শরণার্থীর জীবনসংগ্রাম। তাদের উচ্ছেদ করতে খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়, ঘরে আগুন ধরানো হয়, নৌকা ডুবিয়ে দেয়া হয় এবং চালানো হয় হত্যাযজ্ঞ। এসব নৃশংসতা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন মোংলা চার্চের রেভারেন্ড ও ফটোগ্রাফার সুনীল। তবে তাকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়।
একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে রাজি হওয়া দুই নারীকে চার্চে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পান সুনীল। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। পরে জানা যায়, পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। দুই যুগ পর বাবার তোলা ছবির খোঁজে নামে ছেলে ড্যানিয়েল। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, সেদিন কবর দেয়া হয়েছিল সুনীলকে নয়, একটি গাছের গুঁড়ি। এরপর বাবার প্রকৃত পরিণতি জানতে মরিয়া হয়ে ওঠে ড্যানিয়েল।
সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, চঞ্চল চৌধুরী, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, তাহমিনা অথৈ, তানভীর অপূর্ব, হোসেন জীবন, রিজভি রিজু ও এ কে আজাদ সেতুসহ অনেকে।
