বগুড়ার উন্নয়নে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, বট ও গুপ্ত শুধু জামায়াত-শিবির কিংবা আওয়ামী লীগে নয়, আমাদের মধ্যেও আছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার পাঁচ তারকা হোটেল মম ইনে ‘বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন এ সেমিনারের আয়োজন করে।
মীর শাহে আলম বলেন, গত ২০ বছরে বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার উত্তরাঞ্চলের মানুষকে উন্নয়নের নামে ধোঁকা দিয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের সরকারও ছিল ভয়ংকর স্বৈরাচার। তাদের কর্মকাণ্ড ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমতাভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাস করেন। তিনি বগুড়াকে আলাদাভাবে দেখেন না। দেশের সব অঞ্চলের সমান উন্নয়ন চান। বগুড়ার জন্য অতিরিক্ত কিছু চাওয়া হচ্ছে না, বরং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়া সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণে জমি অধিগ্রহণসহ ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। বগুড়া বিমানবন্দরকে শুধু অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর নয়, বহুমাত্রিক বিমানবন্দর হিসেবে চালুর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও বলেন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শহরের যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধনে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বগুড়া শহরকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বগুড়ায় ওয়াসা গঠনে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। এ ছাড়াও বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ, সড়ক উন্নয়ন ও পৌরসভার উন্নয়ন নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।
করতোয়া নদী খনন ও পুনঃখনন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, কাটাখালী থেকে চার কিলোমিটার এলাকায় নদী খনন ও পুনঃখননের জন্য ১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ধুনট ও সারিয়াকান্দি উপজেলায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং নদীকেন্দ্রিক উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, গোপালগঞ্জ জেলার সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জ ও বগুড়াকে আলাদাভাবে দেখতে চান না। সরকার দেশের সব অঞ্চলের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী।
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের দুর্গোৎসবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে গিয়ে দেশের তিনটি অঞ্চলে দুর্গাপূজা পরিদর্শন করেছেন। ৫৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে দুর্গোৎসবে অংশ নিয়েছেন।
সেমিনারেপ্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আব্দুল মোমিন/আরএআর
