‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’- ফেসবুকে এমন ক্যাপশন দিয়ে এক যুবকের সঙ্গে নিজের একাধিক যৌথ ছবি পোস্ট করার কিছুক্ষণ পরই সুনামগঞ্জের শাল্লায় প্লাবন সরকার নামে একজনের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের আগে ঘরের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ, মরদেহ নামিয়ে রাখা এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে দুই ব্যক্তির চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত প্লাবন সরকার ওই গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে প্লাবন নিজের ফেসবুক আইডিতে একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে তোলা কয়েকটি যৌথ ছবি পোস্ট করেন। ছবিগুলোর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’। পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্লাবনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলাম তার বাড়িতে যান। তারা ঘরের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে প্লাবনের মরদেহ নামিয়ে খাটের ওপর রাখেন। পরে মামুদনগর বাজার থেকে পল্লী চিকিৎসক প্রদীপ দাসকে নিয়ে এসে প্লাবনের রক্তচাপ পরীক্ষা করান। চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানানোর পর ওই দুই ব্যক্তি প্লাবনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পল্লী চিকিৎসক প্রদীপ দাস বলেন, হাবিবুর, মঈনুল ও প্লাবন তিনজনই বাজারের ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাবিবুর ও মঈনুল এসে আমাকে প্লাবনদের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে। তারা বলে, আমাকে একটা জিনিস দেখাবে। তাদের কথায় আমি যাই।
তিনি আরও বলেন, বাড়িতে গিয়ে গাড়ি থেকে নামার পর আমাকে রেখেই তারা দুজন প্লাবনের ঘরের পেছনের দিকে যায়। আমি তাদের পেছনে না গিয়ে সামনে আসতে বলি। কিন্তু তারা পেছনে গিয়ে লাথি মেরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে। আমি সেখানে গিয়ে দেখি, তারা প্লাবনের মরদেহ নামিয়ে খাটের ওপর রেখেছে। পরে তারা আমাকে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র আনতে বলে। আমি চিৎকার করে লোকজন ডাকতে ডাকতে যন্ত্র নিয়ে আসি। রক্তচাপ মেপে দেখি, তার কোনো সাড়া নেই। এ কথা বলার পরই তারা দুজন প্লাবনের মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায়।
হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে মঈনুল ইসলামের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই মঈনুল ওদের সঙ্গে বাজারে হাঁস খেত। প্লাবনের মৃত্যুর ঘটনায় আমার ভাই জড়িত থাকলে তারও শাস্তি হোক। তবে আমরা জানতাম, প্লাবন ও হাবিবুর রহমানের মধ্যে এমন একটি সম্পর্ক ছিল, যা মুখে প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের মধ্যে কয়েকবার ঝগড়াবিবাদও হয়েছে। বাজারের লোকজন বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের কথা বলত।
এ বিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল আহমেদ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার পেছনে কী রহস্য রয়েছে, এটি আত্মহত্যা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
