ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) ভোলা জেলা দক্ষিণ শাখার সেক্রেটারি ও কওমি মাদ্রাসা পরিচালক মাওলানা আব্বাস উদ্দিনের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সমালোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তার পরিচালিত মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকমহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মাওলানা আব্বাস উদ্দিনকে এক নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে আপত্তিকর অবস্থায় কথা বলতে ও অনভিপ্রেত অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মাওলানা আব্বাস উদ্দিনকে এক নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে নগ্ন অবস্থায় অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতে এবং ওই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর কথোপকথনে অংশ নিতে দেখা গেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিজের বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে ঘটনার মন্তব্যে তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথনের সময় ধারণ করা ছিল। এটি তার মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত ছিল। সম্প্রতি তার ব্যবহৃত ফোনটি হারিয়ে গেলে একটি চক্র এটি ছড়িয়ে দিয়ে তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। তবে একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে মুঠোফোনে এমন অসতর্ক আচরণের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
এদিকে কওমি মহিলা মাদ্রাসা পরিচালকের এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও অভিভাবকদের আস্থা জড়িত। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়টির সঠিক তথ্য যাচাই এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।
এ ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সামাজিক মাধ্যমে জানান, খবরের সত্যতা যাচাই করতে ভোলা জেলা দক্ষিণ শাখার সভাপতি অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই দলীয়ভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।