প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা, ব্যবসায়িক দায়িত্ব আর সাংবাদিকতার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা অর্জন সব মিলিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশি মো. হেবজু মিয়া। ভারতের জয়পুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে অনলাইনে বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।
কুয়েতের কেন্দ্রীয় সবজি ও ফলের বাজারে দীর্ঘ কর্মঘণ্টার ব্যবসায়িক ব্যস্ততার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন এ প্রবাসী সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী। তার এ অর্জন উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব, কুয়েতের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে কুয়েত সিটির সিটি টাওয়ার হোটেলে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধিত অতিথি মো. হেবজু মিয়া বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব, কুয়েতের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং যমুনা টেলিভিশনের কুয়েত প্রতিনিধি।
প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কুয়েতের কেন্দ্রীয় সবজি ও ফলের বাজারে ব্যবসায়িক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্জন করেন স্নাতক ডিগ্রি।
বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব, কুয়েতের সভাপতি ও সময় টেলিভিশনের প্রতিনিধি, সিনিয়র সাংবাদিক মঈন উদ্দিন সরকার সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আ হ জুবেদ।
এতে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, কুয়েতের সুনামধন্য ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী, ক্রিকেট ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
বক্তারা বলেন, প্রবাসজীবনের কর্মব্যস্ততার মধ্যেও শিক্ষা অর্জনের এই প্রচেষ্টা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। হেবজু মিয়ার এ অর্জন প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে প্রতিকূলতার মধ্যেও লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
ব্যবসা ও সাংবাদিকতা বিভাগের দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয় মো. হেবজু মিয়া। কুয়েতের কেন্দ্রীয় সবজি ও ফলের বাজারে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি প্রবাসীদের সুখ-দুঃখ, সমস্যা, সম্ভাবনা ও অধিকার নিয়ে সংবাদ তুলে ধরছেন তিনি।
তার এই অর্জনকে ঘিরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায়। এতে উঠে আসে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা।
অতিথিদের প্রত্যাশা, প্রবাসের প্রতিকূলতা ও ব্যস্ততার মধ্যেও শিক্ষা অর্জনের এই দৃষ্টান্ত আরও অনেক বাংলাদেশিকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে এবং নিজেদের দক্ষতা বিকাশে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।
প্রবাসজীবনের শত ব্যস্ততার মধ্যেও শিক্ষা অর্জনের এই সাফল্য যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়- শেখার কোনো বয়স নেই, স্বপ্নপূরণেরও নেই নির্দিষ্ট কোনো সময়।
