ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ চেষ্টা হলে সরকারকে মাগুরার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ভোট দিতে এবং পছন্দের প্রার্থী বেছে নিতে জনগণ প্রস্তুত রয়েছে। ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দেলোয়ার হোসাইনের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন ঘিরে কারচুপির পরিকল্পনার খবর তাঁদের কাছে রয়েছে উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতো আবারও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ ধরনের কোনো চেষ্টা হলে সরকারকে মাগুরার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়, যা থেকে সরকার পতনের আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে মাগুরার ঘটনার পুনরাবৃত্তি তাঁরা চান না। এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা পরিহার করতে হবে। ভোট কারচুপি ঠেকাতে জনগণও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাত দলের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনা এবং ১১-দলীয় জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১১-দলীয় ঐক্য অটুট রয়েছে। জোট ভেঙে যাওয়া বা দলগুলোর বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যেসব বক্তব্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, বৈঠকে সংশ্লিষ্ট নেতাদের উপস্থিতিই তার জবাব। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
এ সময় আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি জানান, ওই দিন সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টায় সমাবেশ শেষে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে লংমার্চ। পথে নাওডোবা, কাটাখালী, খুলনার বাবরি চত্বর, ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মণিরামপুর মোড় ও চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ছয়টি পথসভা হবে। কর্মসূচির সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত হবে কুষ্টিয়া জেলা হাইস্কুল মাঠে।
লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালনের কথা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চান জামায়াতের এই নেতা। একই সঙ্গে কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, কোনো উসকানি বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সরকার কর্মসূচি বানচালের চেষ্টায় জড়িত—এমন সন্দেহ তৈরি হবে।
এমএম/
