গত কয়েক দিনে ভারতের রাজধানী দিল্লি দুর্গে পরিণত হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। এ দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং বিরোধী দলসমূহের প্রতিবাদী বিক্ষোভ সমাবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে নগরময় এই দুর্গ রচনা। কার্যত অচল করে দেওয়া হয়েছিল গোটা রাজধানী; ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ হয়েছিল। জানানো হয়েছিল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে, মেট্রোও। বিক্ষোভের দিন গোটা শহর থেকে আটক হলেন অন্তত সাত হাজার নাগরিক— তাঁরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে রাজধানীতে এসেছিলেন। প্রশ্ন উঠবে, এ প্রহরা কার জন্য? নাগরিকের জন্য নয়। গণতন্ত্রের জন্য তো নয়ই। কেবল শাসকের ক্ষমতা ও সম্মান রক্ষার জন্যই কি তবে এই প্রহরা? বিশ্বের জনবহুলতম গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ রুখতে রাষ্ট্রযন্ত্র সর্বশক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল নাগরিকের প্রতিবাদ জানানোর মৌলিক অধিকার হরণ করতে— এই ঘটনাটি বিশ্বসভায় ভারতের যে ছবি তৈরি করল, তা সহজে মুছবে না। বাস্তবিক, ছবিটি এখনও দৃশ্যমান। এখনও রাজধানী দিল্লি ছেয়ে আছে পুলিশ ও আধাসেনা বাহিনীতে। নিতান্ত দুর্বল স্বাস্থ্যের কিশোরী থেকে দৃশ্যত শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার যুবক, সবার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ছে পুলিশ— প্রতিবাদ ঠেকাতে। স্পষ্টতই, শাসক ভয় না পেলে নিজের সম্মান বা ক্ষমতা রক্ষার জন্য এতখানি মরিয়া হয়ে ওঠে না। অর্থাৎ নাগরিক যে প্রশ্ন নিয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশে হাজির হয়েছেন, তার কোনও সদুত্তর সরকারের কাছে নেই। সেই কারণেই প্রশ্ন করার, প্রতিবাদ করার পরিসরকে এই ভাবে বলপূর্বক সঙ্কুচিত করতে সরকার এত ব্যাকুল। বছর কয়েক আগে কৃষকদের বিক্ষোভ আন্দোলনের সময়ও ঠিক এই ভয়ই ফুটে উঠেছিল সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে। প্রধানমন্ত্রী মোদী কথায় কথায় নিজের বজ্রকঠোর ভাবমূর্তি জনসমক্ষে তুলে ধরেন। বোঝা গেল, কেবল ‘শত্রু’ নয়, প্রতিবাদ দেখলে নিরস্ত্র নাগরিকের অহিংস আন্দোলনের বিরুদ্ধেও বজ্রকঠিন দমনই তাঁর পথ। একে আর যা-ই হোক, গণতান্ত্রিক মানসিকতা বলা চলে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
Best Value
এক বছরে
5,148
1,999
এক মাসে
429
169
মেয়াদ শেষে নতুন দামে আপনাকে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে
Subscribed already? Log in
সাবস্ক্রাইবার হলে আপনি পাচ্ছেন
পুরনো দিনের খবর মিলবে আর্কাইভে
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন
Monday - Saturday: 10 am to 6 pm (except public holidays).
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
