Published on
:
2 min read
রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। গৃহস্থের বাড়িতে নাড়ু, খই-মুড়কি বানানোর তৎপরতা এখন তুঙ্গে। কিন্তু সময়ের অভাব আর ব্যস্ত জীবনের হাত ধরে পুজোর বাজারে এখন রাজত্ব করছে রেডিমেড জিনিস। আগে যেখানে ঘরে ঘরে খড়িমাটি গুলে আলপনা দেওয়া কিংবা নারকেল কোড়ার ধুম পড়ত, এখন সেখানে ভরসা কেবল রেডিমেড স্টিকার আলপনা আর প্যাকেটের নাড়ু। রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। তার আগে মেদিনীপুর শহরের বিভিন্ন বাজারে দেখা গেল উপচে পড়া ভিড়। ফলমূল ও পুজোর উপাচারের পাশাপাশি এ দিন দেদার বিক্রি হচ্ছে নাড়ু, খই-মুড়কি আর নানা ডিজ়াইনের আলপনার স্টিকার। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার ফাঁকে এই সব রেডিমেড জিনিস কিনে বাড়ি ফিরছেন গৃহস্থরা।
Ei Samay
লক্ষ্মীপুজো মানেই ঘরে ঘরে মা, দিদিমাদের হাতে আঁকা আলপনার চিরাচরিত রীতি। চালের গুঁড়ো বা সাদা খড়িমাটি গুলে ফুটিয়ে তোলা হয় আলপনা। অনেকে সাদা রঙের পাশাপাশি অন্য রঙেও রঙিন করে তোলেন ঘরের মেঝে ও উঠোন। সেই সঙ্গে ঘরের চৌকাঠে মা লক্ষ্মীর ছোট ছোট পায়ের ছাপ আঁকা যেন এক অবিচ্ছেদ্য নিয়ম। কিন্তু এখন সময়ের অভাবে অনেকেই আর আলপনা দিচ্ছেন না। তাঁদের মুশকিল আসান করে দিচ্ছে বাজারে মেলা রেডিমেড স্টিকার আলপনা। দামও সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই। মা লক্ষ্মীর ছোট পায়ের ছাপের স্টিকার মিলছে ১০ থেকে ২০ টাকায়। আর নকশাদার একটু বড় আলপনা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।
Ei Samay
আলপনার পাশাপাশি পুজোর অন্যতম আকর্ষণ নাড়ু তৈরির কাজেও এসেছে বড় বদল। লক্ষ্মীপুজোয় নারকেল নাড়ু, তিলের নাড়ু কিংবা মুড়কি ছাড়া পুজো ভাবাই যায় না। আগে বাড়ির মহিলারা দিনভর খেটে এ সব মিষ্টি বানাতেন। এখন অনেকেই সেই ঝক্কি পোহাতে চান না। ফলে বাজারে প্যাকেটের নাড়ুর চাহিদা তুঙ্গে। বড় তিন পিস কিংবা ছোট পাঁচটি নারকেল নাড়ুর প্যাকেটের দাম মাত্র ২০ টাকা। আবার ২৫ পিসের নাড়ুর জারের দাম রাখা হয়েছে ১৩০ টাকা। তিলের নাড়ুর দামও একই রকম। মুড়কির ছোট প্যাকেটের দাম শুরু হচ্ছে ২০ টাকা থেকে।
Ei Samay
এ ছাড়া লক্ষ্মীপুজোর আর একটি অত্যন্ত জরুরি সামগ্রী হলো ধানের ছড়া। সুন্দর করে ১০-১২টি ধানের শিষ বেঁধে এই ছড়া তৈরি করা হয়। লক্ষ্মীর ঘটে বা ঠাকুরের আসনে দেওয়ার জন্য এই ধানের ছড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ২০ টাকা দরে। শনিবার সকাল থেকেই এই সমস্ত সামগ্রী কিনতে মেদিনীপুরের বাজারগুলিতে সাধারণ মানুষের ছিল লম্বা লাইন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুজোর প্রস্তুতি কিছুটা সংক্ষিপ্ত হলেও, মা লক্ষ্মীকে ঘরে তোলার আনন্দে বিন্দুমাত্র খামতি নেই কারও।