চলতি জাতীয় ক্রিকেট লিগে পরপর দুই রাউন্ডে নব্বই ছুঁয়েও সেঞ্চুরি করতে পারেননি কালাম সিদ্দিকি। তবে এবার আরেকটু বড় মঞ্চে, আরেকটু কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যাট করতে নেমে তিন অঙ্কের দেখা পেলেন তরুণ মিডল-অর্ডার ব্যাটার। যা হতে পারে জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের জন্যও ভরসার উপাদান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে কালামের সেঞ্চুরি ছাড়াও ৮৬ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন জিসান আলম। চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ান, শামীম হোসেন, জাকের আলিরাও ব্যাট হাতে ছিলেন সাবলীল।
আনভির ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার নির্ধারিত ৯০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৭১ রান করেছে বিসিবি একাদশ। মূল সিরিজ শুরুর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট স্কোয়াডের বোলারদের বিপক্ষে তাদের এমন ব্যাটিং কিছুটা হলেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কাছে।
প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই হয়তো ক্যারিবিয়ান বোলারদের তীব্রতা বা ফিল্ডারদের শরীরী ভাষা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল না। তবু কিমার রোচ, জেডেন সিলস, জোমেল ওয়ারিকানদের বিপক্ষে চমৎকার ব্যাটিংই করেন কালাম, জিসানরা।
দিনের শুরুতে আগে ব্যাটিং পায় বিসিবি একাদশ। দুই দিনের ম্যাচ হওয়ায় খেলা শুরুর আগেই দুই দল ৯০ ওভার করে ব্যাটিংয়ের ব্যাপারে সম্মত হয়। তাই ম্যাচের দ্বিতীয় দিন ফিল্ডিংয়ে নামবে বিসিবি একাদশ আর ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ব্যাটিংয়ে পেসের বিপক্ষে খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি জিসান, কালাম, শামীমদের। দিনের শুরুতে দুই স্পেলে ৬ ওভারের স্পেলের পর আক্রমণে ফেরেননি রোচ। জেডেন সিলস ভিন্ন তিন স্পেলে করেন ৯ ওভার। বাকি সময় চলে জশুয়া বিশপ, জোমেল ওয়ারিকান, রস্টন চেইসদের স্পিন আক্রমণ।
জাতীয় লিগে দারুণ ছন্দে থাকা মাহফিজুল ইসলাম বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। সিলসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। বিশপের বাঁহাতি স্পিনে বড় শটের খোঁজে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়েন তিন নম্বরে নামা ইফতেখার।
অন্য প্রান্তে শুরু থেকেই স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন জিসান। ৮ চার ও ১ ছক্কায় মাত্র ৫৫ বলে তিনি করেন পঞ্চাশ রান। তৃতীয় উইকেটে কালামকে নিয়ে তিনি গড়েন ৬২ রানের জুটি। সাবলীল ব্যাটিংয়ে এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তবে সেটি হতে দেননি বিশপ। লেগ স্টাম্পে পিচ করা ডেলিভারি সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন জিসান। ১১ চার ও ২ ছক্কায় তিনি সাজান ১০০ বলের ইনিংস।
কালাম বেছে নেন সাবধানী পথ। টেস্ট মেজাজের ব্যাটিংয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন তিনি। ৯০ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর সেঞ্চুরিতে যেতে খেলেন আরও ৭১ বল।
প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে তিনবার পঞ্চাশ করলেও শতরান নেই ১৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের। অনানুষ্ঠানিক ম্যাচ হওয়ায় এই সেঞ্চুরিও যোগ হবে না ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানে। তবে ওয়ারিকান, চেইস, সিলসদের মতো আন্তর্জাতিক বোলারদের বিপক্ষে এমন ইনিংস সামনের দিনগুলির জন্য হতে পারে প্রেরণাদায়ী।
তিন অঙ্ক ছুঁয়ে হাত খুলে খেলেন কালাম, ২২ বলে যোগ করেন আরও ৩৫ রান। শেষ পর্যন্ত অনিয়মিত মিডিয়াম পেসার কেভিন উইকহ্যামের কিছুটা নিচু হয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে এলোমেলো হয় তরুণ ব্যাটসম্যানের স্টাম্প। সব মিলিয়ে ২০ চার ও ১ ছক্কায় ১৮৪ বলে তিনি করেন ১৩৫ রান।
এরপর দিনের শেষ ভাগে ওয়ানডে স্টাইলে রান তোলেন রিজওয়ান ও শামীম। শেষ ৮ ওভারে যোগ হয় ৫৬ রান। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ১০৬ বলে ৫৯ রান করে আউট হন রিজওয়ান। শামীমের ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩০ বলে ৩৫ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বিসিবি একাদশ: ৯০ ওভারে ৩৭১/৭ (মাহফিজুল ৪, জিসান ৮৬, ইফতেখার ১৮, কালাম ১৩৫, জাকের ৩০, রিজওয়ান ৫৯, শামীম ৩৫*, মেহেরব ০, হালিম ০*; রোচ ৬-৩-১০-০, সিলস ৯-৩-৩০-১, বিশপ ২৩-২-৮৭-২, ওয়ারিকান ২১-২-৬১-১, চেইস ১৭.৫-০-৮৫-০, হজ ৬-১-৩৪-২, চান্দারপল ৬-০-৫৩-০, উইকহ্যাম ১.১-০-৯-১)
