The Sangbad · রাজনীতি
কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
১৫/১০/২০২৬

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৃষিকে একটি লাভজনক খাতে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।তিনি বলেছেন, বর্তমানে দেশের কৃষি খাত আর লাভজনক পর্যায়ে নেই। কৃষিকাজ থেকে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকরা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন, যার ফলে এখন মাঠে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা জরুরি।’উত্তরাঞ্চলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় আলু রাস্তায় ফেলে দিতে হয়, অথচ পরে বীজ আলুর দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। একইভাবে উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় আসার পর আলুর দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। শুধু আলু নয়, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘসময় সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও প্রযুক্তির বিস্তার প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।পেঁয়াজ উৎপাদনে গবেষকদের সাফল্যের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হতো। এখন দেশেই উৎপাদন বাড়ায় আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সার মাটির উর্বরতা ও ফসলের গুণগত মান নষ্ট করছে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতন করা এবং টেকসই কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই।কৃষি বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে এই পেশায় আকৃষ্ট হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে তিনি কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ প্রবর্তনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান কৃষিখাতে বিপ্লব এনেছিলেন। একই সাথে তিনি (মির্জা ফখরুল ইসলাম) মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদ এবং সাম্প্রতিক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি সচিব মো: সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং ব্রির মহাপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।এর আগে সকালে রাষ্ট্রপতি বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরিদর্শন শেষে তিনি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং পিজিআরসি প্রাঙ্গণে ‘বারি কাঁঠাল-৬’ জাতের একটি চারা রোপণ করেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗