ইরানের শাসকগোষ্ঠী মনে করছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো হামলা চালাতে প্রস্তুত। এ আশঙ্কায় সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে পারমাণবিক স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করছে ইরান। সমর্থকদের সংগঠিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে আরো বড় ও কঠোর পাল্টা হামলার হুমকিও দিচ্ছে।
মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জানায়, স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের স্পর্শকাতর স্থাপনা ও সীমান্ত এলাকায় প্রতিরক্ষা জোরদারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতিও চলছে। আধাসামরিক বাহিনী কিন্ডারগার্টেনের শিশুদের যুদ্ধের গল্প শোনাচ্ছে, কাঁধে বহনযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে এবং প্রশিক্ষণ সমাবেশ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত যুদ্ধবিমান, অনেক উঁচুতে উড়তে পারে এমন বোমারু বিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা ঠেকানোর সামর্থ্য ইরানের সীমিত। তাই সম্ভাব্য হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিরত রাখতে পাল্টা আঘাতের হুমকি দিচ্ছে তেহরান। একই সাথে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর হচ্ছে। দেশটিতে বিমান চলাচল বন্ধে বিমান সংস্থাগুলোর ওপরও চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরানিদের অর্থনৈতিক দুর্দশা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও কঠোর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেই দুর্দশা থেকে মানুষের মনোযোগ সরানোর চেষ্টাও চলছে।
লন্ডনের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক সানাম ওয়াকিল বলেন, কূটনীতি, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে অচলাবস্থার কারণে আপাতত যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের শাসকগোষ্ঠীর কাজে আসছে। নতুন যুদ্ধ শুরু হলে তারা নিজেদের তৈরি সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি কর্মকর্তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে স্থল অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত, আঞ্চলিক তথ্যকেন্দ্র ও ইন্টারনেট সংযোগব্যবস্থায় হামলার হুমকি দেন। নতুন সংঘাত শুরু হলে সৌদি আরবের তেল স্থাপনাও হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে আরব কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছে তেহরান।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি ও আরেকটি মেরিন অভিযান ইউনিট পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই অঞ্চলের ঘাঁটিগুলোতে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও গোলাবারুদ পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে পেন্টাগন। ট্রাম্প ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর কথা বললেও ইরানের পিক্যাক্স মাউন্টেন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। যুদ্ধ শুরুর সাত মাসের বেশি সময় পরও দুই পক্ষ নিজেদের যুদ্ধক্ষমতা বাড়াচ্ছে। অচলাবস্থা ভাঙতে উভয় পক্ষই নিজেদের অনুকূলে পরিস্থিতি নিতে চাইছে; লড়াই থেকে সরে আসার লক্ষণ নেই কারো।
